জাদুকাটা নদীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ, শ্রমিকের লাশ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা-এর জাদুকাটা নদী-কে ঘিরে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীপথটি কার্যত ‘চাঁদাবাজির করিডোর’-এ পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নদীতে শ্রমিকের লাশ ভেসে ওঠার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বালু ও পাথরবাহী নৌযান থেকে সরকারিভাবে প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য ৩০ পয়সা টোল নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফাজিলপুর টুল ট্যাক্স ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত হারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের হিসাবে, একটি বালুবাহী নৌকা থেকে যেখানে দুই হাজার টাকার কিছু বেশি নেওয়ার কথা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি নৌকা থেকে এভাবে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
চাঁদাবাজির সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।
তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাটে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে সেখানে বাইরের হস্তক্ষেপ মেনে না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
স্থানীয় নৌ-শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, রশিদবিহীন টাকা আদায়, নৌকা আটকে রাখা এবং প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের ঘটনা নিয়মিত। এতে তারা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন।
এদিকে নদীতে শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে—এসব মৃত্যু স্বাভাবিক, নাকি চাঁদাবাজির বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুক আলম শান্তনু বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলেও সরেজমিনে প্রমাণ পাওয়া কঠিন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জটিল হয়ে পড়ে। তবে নদীতে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান কামরুল চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহল নদীপথে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও জোরালো প্রশাসনিক অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: