সুনামগঞ্জে এতিম শারমিনের রাজকীয় বিয়ে!
জীবনের পথচলা শুরু হয়েছিল নানা বাঁক পেরিয়ে। চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ছাতকে আসা, এরপর সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় পাওয়া। সেই প্রতিষ্ঠানের পরিচিত আঙিনায় বেড়ে ওঠা শারমিন আক্তারের জীবনে এবার যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। শাল্লা উপজেলার মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের মধ্য দিয়ে সংসারজীবন শুরু করলেন তিনি। এ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের।
২০০৭ সালে জন্ম নেওয়া শারমিনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় কেটেছে সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে। যে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা, সেই পরিচিত আঙিনাতেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজনটি পেয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। বিয়েকে কেন্দ্র করে শিশু পরিবারে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সাজসজ্জা, অতিথিদের উপস্থিতি, আপ্যায়ন ও নানা আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
শারমিনের জীবনের এই বিশেষ দিনে পাশে দাঁড়ান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাজনীতি, ব্যবসা ও সমাজসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজনটি হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও স্মরণীয়। শিশু পরিবারের বাসিন্দাদের মধ্যেও এ আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসাহ উদ্দীপনা।
শারমিনের জীবনযাত্রার গল্পে এই বিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। শৈশব কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত পরিচিত পরিবেশ থেকে এবার নতুন সংসারে পা রাখলেন তিনি। একদিকে নতুন জীবনের স্বপ্ন, অন্যদিকে বেড়ে ওঠার দিনগুলোর স্মৃতি সব মিলিয়ে দিনটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত হয়ে থাকল।
এ আয়োজন শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না বরং শারমিনের নতুন জীবন শুরুর আনন্দ ভাগ করে নিতে একত্র হয়েছিলেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাঁদের উপস্থিতি ও শুভকামনায় আয়োজনটি পায় বাড়তি মাত্রা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস, সুনামগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) এর উপতত্ত্বাবধায়ক তাছলিমা আক্তার লিমা, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সামছুল হক, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ব্যক্তিরা।
শারমিনের বিয়েকে ঘিরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান তাঁর জীবনের স্মরণীয় একটি দিনে পরিণত হয়। নতুন সংসারে তাঁর জীবন সুখ, শান্তি ও ভালোবাসায় ভরে উঠুক এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: