কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অপরাধে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড!

কানাডায় বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অপরাধে দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড!

প্রথম ডেস্ক

২৪/১০/২০২৬ ১০:৫৬:৩৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশে এক বাংলাদেশি নারীকে মানবপাচার, চরম শ্রম শোষণ এবং একাধিকবার ধর্ষণের অপরাধে মোহাম্মদ মাসুম (৪৫) ও সোহেল হায়দার (৫৫) নামের দুই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ মালিককে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাসকাটুনের প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং তার সহযোগী সোহেল হায়দারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সংবাদমাধ্যম প্রথম সিলেট  প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারীও একজন বাংলাদেশি। কানাডায় পাচারের শিকার হয়ে চরম শোষণের মুখোমুখি হওয়া ওই নারী জানান, বীভৎস সেই অভিজ্ঞতার পর তিনি এখনো চরম ভীতি ও আস্থার সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

আদালতে দেওয়া ভুক্তভোগী নারীর মর্মস্পর্শী জবানবন্দিতে উঠে আসে চরম নির্যাতনের চিত্র। তিনি উল্লেখ করেন, আসামিরা তাঁর সব স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ এবং ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি কানাডার এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশেও নানা গুঞ্জন ও গুজবের কারণে তাঁর পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা ওই নারীকে বাংলাদেশ থেকে কানাডায় নেওয়ার পর গ্যাল লেক, টিসডেল এবং এলরোজ এলাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজে লাগান। পরবর্তীতে তাঁর কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল ও পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে দিয়ে সপ্তাহে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো হতো। তাঁকে একটি স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার বেজমেন্টে আটকে রাখার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্ত মাসুম তাঁর পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং কমপক্ষে আটবার যৌন নির্যাতন চালান।

অবশেষে ২০২৩ সালে স্থানীয় দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন অভিবাসন কর্মীর সহায়তায় ওই নারী নরকতুল্য ওই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে কানাডিয়ান পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে এবং দীর্ঘ ১৮ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন। গোপনীয়তা রক্ষা ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ভুক্তভোগী নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad