মৌলভীবাজারে ভিসার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পথে বসেছে ৭ পরিবার

মৌলভীবাজারে ভিসার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

২৪/১০/২০২৬ ০৪:০৩:২৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও বিদেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আব্দুল কাইয়ুম রুমন, যিনি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের ভাই। প্রায় তিন বছর ধরে জমানো টাকা ফেরত না পেয়ে নিঃস্ব ও দেনার দায়ে দিশেহারা সাতটি পরিবারের সদস্যেরা এবার পাওনা আদায় ও বিচারের দাবিতে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মৌলভীবাজারের আর এস কায়রান হলরুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী জুয়েনা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ইউরোপ ও বিভিন্ন দেশে উন্নত কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম রুমন এলাকার সাতজন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২ কোটি ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। লেনদেনের সময় রুমন ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তিপত্রের পাশাপাশি জামানত হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক প্রদান করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী দুই মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পার হলেও তিনি কোনো ভিসা বা টাকা ফেরত দেননি।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমাজমি বিক্রি, ব্যাংক ঋণ ও চড়া সুদে টাকা ধার করে তারা রুমনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিগত তিন বছরে সুদের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় এখন পরিবারগুলো ভাঙনের মুখে পড়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাওনা টাকা চাইতে গেলে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিকান্দার আলী রোডের বাসভবনে গেলে কর্মচারীদের দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত ও তাঁর ভাই বিএনপি নেতা বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাওনা টাকা ফেরত পেতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে লিখিত আবেদন জানানোর পাশাপাশি ঢাকায় গিয়ে গণভবনের সামনে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন ভুক্তভোগীরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হিসাব মতে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ: জুয়েনা আক্তার: ৪০ লাখ টাকা,আতিকুল ইসলাম: ৩৬ লাখ টাকা,বাবলু মিয়া: ৩৫ লাখ টাকা,লিপি আক্তার: ৩১ লাখ টাকা,কামরান হোসাইন: ৩১ লাখ টাকা,মো. জয়নুল ইসলাম: ২১ লাখ টাকা,রুমেনা বেগম: ১২ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কামরান আহমদ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad