হাওর রক্ষায় পোর্টসমাউথের লর্ড মেয়রের সহযোগিতার আশ্বাস
যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়র আব্দুল কাদিরের সাথে মৌলভীবাজার জেলার হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিবের এক সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব খাইরুল আনাম খানও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সদস্যসচিব হাওর রক্ষা আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ জারি এবং 'হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন-২০২৬' প্রণয়নের বিষয়টি লর্ড মেয়রকে অবহিত করা হয়। একই সাথে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েটল্যান্ড দখল, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস এবং এর ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র তাঁর সামনে উপস্থাপন করা হয়।
লর্ড মেয়র আব্দুল কাদির জলবায়ু পরিবর্তনকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "আমি নিজেও একটি আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংস্থার সাথে যুক্ত। চলতি বছর ব্রিটেনে দীর্ঘতম গ্রীষ্মকাল (লঙ্গেস্ট সামার) অনুভূত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় পোর্টসমাউথ সিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।"
বাংলাদেশের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লর্ড মেয়র বলেন, "আগামী ৫০ বছর পর বাংলাদেশ বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে, এমনকি স্থলভাগের একটি বড় অংশ সাগরে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মানুষের অপরিকল্পিত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"
হাওর রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, "৫০ বছর পরের সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকানোর জন্য এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনের সাথে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।"
নিজের শেকড়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমিও সুনামগঞ্জের হাওরপাড়ের সন্তান। তাই হাওরবাসীর সুখ-দুঃখ ও জীবনসংগ্রামের সাথে আমি সুপরিচিত। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার পৌরসভাগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিভাবে পরিবেশ সচেতনতা যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাথে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।"
পরিশেষে মহাবিশ্বের প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর গুরুত্ব তুলে ধরে লর্ড মেয়র বলেন, "বালুকণার সমান এই পৃথিবীই মানুষের বসবাসের একমাত্র স্থান। তাই একে সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখার দায়িত্বও আমাদেরই।" তিনি আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিষয়ক সভা-সেমিনারে হাওর রক্ষা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের ই-মেইলে নিয়মিত তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করেন। একই সাথে তিনি তাঁর অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: