বর্ণাঢ্য আয়োজনে গ্রেটার জৈন্তিয়া এসোসিয়েশনের রজত জয়ন্তী পিকনিক উদযাপিত
দূর পরবাসে থেকেও নিজের জন্মমাটি, শৈশব আর স্বদেশের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে রাখার এক আবেগঘন উপলক্ষ তৈরি হয়েছিল মিশিগানে। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটির আমেজ নিয়ে, নাড়ির টানে একসূত্রে গেঁথেছিলেন প্রবাসী জৈন্তিয়াবাসীরা। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর শৈশবের স্মৃতিচারণে সিক্ত হয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো গ্রেটার জৈন্তিয়া এসোসিয়েশনের রজত জয়ন্তী পিকনিক-২০২৬।
গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) মিশিগানের স্টারলিং হাইটস সিটির সবুজঘেরা “জেমস সি নেলসন পার্কে” এ প্রবাস মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। জন্মভূমির শেকড়ের টান আর স্বজনদের সান্নিধ্য যেন কিছুক্ষণের জন্য দূর পরবাসের দূরত্বকে ভুলিয়ে দিয়েছিল।
সংগঠনের সভাপতি জনাব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খাজা আফজাল হোসেন ও এডভোকেট দীপক চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে স্বদেশের চেতনা ছড়িয়ে দিতে ২৫টি রঙিন বেলুন ও প্ল্যাকার্ড উড়িয়ে এবং উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার সাথে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন হাজী আব্দুর রকিব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিক উদ্দিন। উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের অতীত ও শেকড়কে ধরে রাখার পাশাপাশি সংগঠনকে গতিশীল করতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্বের হাল ছেড়ে দিতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান, মনাফ আহমদ বাবুল, ডিজিএম জয়নাল আহমদ, খাজা শাহাব আহমদ, সফিকুর রহমান, ওলিউর রহমান, অধ্যাপক আমিনুল হক, তাজুল ইসলাম, সাইফ উদ্দীন ভূঁইয়া, অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ বাবুল, ফায়জুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রহিম এবং কাউন্সিলম্যান কামরুল হাসান।
দুপুরের প্রীতিভোজের পর দ্বিতীয় পর্ব যেন হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথি ও প্রবাসী সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। এ পর্বে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এম মোস্তফা কামাল, কাউন্সিলম্যান আবু মুসা, কাউন্সিলম্যান নাঈম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান তাহমিনা আক্তার লিমা, এডভোকেট আজম মাসুম, ফয়সল ইসলাম, ফয়সল আহমদ, সাংবাদিক তোফায়েল রাজা, সাংবাদিক মাহমুদুল হক লিটু, সাংবাদিক ফয়সল আহমদ মুন্না, সাংবাদিক রানা, সাংবাদিক শাহেদ আহমদ, সাংবাদিক সুলায়মান আহমদ, সাব্বির খান, খোকন আহমদ, আলী রাজা রাজু, লন্ডন থেকে আগত বদরুল আলম, সালাউদ্দীন, হারুন চৌধুরী, খলকুর রহমান, তারেক আহমদ, সালেহ রাজেল ও আব্দুল বাছিত।
এছাড়াও সংগঠনকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য—সেই সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ সপরিবারে এবং বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশু উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে এক মিলনমেলায় পরিণত করেন। প্রবাসের ব্যস্ত জীবন ফেলে সহাস্যমুখে মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।
তৃতীয় পর্বে প্রবাসী শিশুদের স্বদেশের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য ২৫টি ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীসহ মোট ১০০ জন বিজয়ীর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের রজত জয়ন্তী ও ২৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে কাটা হয় দুটি বিশেষ কেক। দিনটির চূড়ান্ত আকর্ষণ ছিল জমকালো র্যাফেল ড্র, যেখানে ফ্রিজ, টিভি, ল্যাপটপসহ ১৫টি আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে আবেগে আপ্লুত হয়ে সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নাড়ির টানে, শেকড়ের টানে আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি। সংগঠনের এই ঐতিহাসিক রজত জয়ন্তীতে দায়িত্ব পালন করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসীদের নিয়ে ১৯৯৮ সালে যে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল, প্রতিষ্ঠাকালীন নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কারণেই আজ তা মহীরূহে পরিণত হয়েছে।” তিনি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: