বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হযবরল দশা

বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হযবরল দশা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ

১৭/০৯/২০২৬ ১১:৩৯:০২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হলেও, সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দেখা দিয়েছে হযবরল অবস্থা। পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো ডাস্টবিনগুলো উপচে প্রতিদিনই ময়লা-আবর্জনা পড়ছে মূল সড়কে। কোথাও আবার অস্তিত্ব বোঝার উপায় নেই ডাস্টবিনের।

আবর্জনার স্তূপে ঢেকে গেছে পুরো জায়গা। নিত্য বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও, তা করছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগ-জীবাণু। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।

সরেজমিন পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। ময়লায় পূর্ণ হয়ে আছে বিভিন্ন স্থানে রাখা ছোট-বড় ডাস্টবিন। কোনো কোনো জায়গায় ময়লা উপচে ছড়িয়ে পড়েছে মূল সড়ক আর ফুটপাতে। কোনো কোনো এলাকায় এত ময়লা জমেছে যে, নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

পৌরশহরের কলেজ রোডে বিশ্বনাথ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়, দেয়ালঘেঁষে পাশাপাশি রাখা দুটি ডাস্টবিনই অবর্জনায় ঠাসা। ময়লা ছড়িয়ে পড়েছে সড়কের ওপর। আশপাশে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এর কাছেই অবস্থান রামসুন্দর অগ্রগামী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও একাধিক চিকিসাকেন্দ্রের। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানে এমন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ১৫০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছিল। এর মধ্যে চুরি গেছে ৫০-৬০টি। অবশিষ্টগুলো দিয়েই কোনোমতে চলছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম। এ ছাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলার নেই কোনো স্থায়ী নিজস্ব জায়গা। বর্তমানে কালীগঞ্জ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা-সংলগ্ন ১৫ শতক জায়গা ভাড়া নিয়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা। পরিবহন আর জনবলসংকট তো আছেই। এসব কারণে প্রতিদিন বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না।

পৌর নাগরিক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৌরসভাকে আমরা নিয়মিত কর দিই। বিনিময়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়াটা আমাদের অধিকার। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় শুধু দুর্গন্ধই নয়, রোগ-বালাই ছড়ানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথ পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনবলসহ অন্যান্য সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করছি। পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad