জগন্নাথপুরে হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ১, নিখোঁজ ৩
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে মইয়ার হাওরে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ডিঙ্গি নৌকা ডুবে গেছে। এতে ১ জনের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩ জন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোরে জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার বৈঠাখালী সংলগ্ন মইয়ার হাওরে।
নিখোঁজ ও হতাহত ব্যক্তিরা হলেন পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা অরুণ দেবনাথ (৪৫), অধির দেবনাথ (৫০), হেমেন্দ্র দেবনাথ (৫৫) ও সতীন্দ্র দেবনাথ (৫২)। সকালে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কার তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও স্বজনরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় এক প্রতিবেশীর বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারা। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার ভোরে একটি ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে তারা নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে হাওরের বৈঠাখালী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি উল্টে যায়।
এ সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন যাত্রী সাঁতার কেটে অলৌকিকভাবে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অরুণ, অধির, হেমেন্দ্র ও সতীন্দ্র হাওরের উত্তাল পানিতে তলিয়ে যান। সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী হাওরে তল্লাশি চালিয়ে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন এবং জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম। তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। নিখোঁজ বাকি ৩ জনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ ডুবুরি দল হাওরে অভিযান চালাচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে মর্মান্তিক এই নৌকাডুবির ঘটনায় পুরো ভবানীপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাওরপাড়ের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রীতম দাস/ নীরব
মন্তব্য করুন: