সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতা : পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা

সুনামগঞ্জে জলাবদ্ধতা : পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

০১/০৮/২০২৬ ১৪:১৩:৫৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

গত শুক্রবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পশ্চিম নতুন পাড়া এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় পুরো এলাকার অলিগলি এখন হাঁটু পানির নিচে। এমনকি বহু বাসিন্দার বাসাবাড়িতে নোংরা পানি ঢুকে পড়ায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

​শনিবার (১ আগস্ট) সরেজমিনে পশ্চিম নতুন পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের গোসাইবাড়িসহ আশপাশের সমস্ত গলি পানিতে থৈ থৈ করছে। বাধ্য হয়েই নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। নিচু ঘরবাড়িগুলোতে পানি ঢুকে পড়ার আশঙ্কা যেমন বেড়েছে, তেমনি ইতোমধ্যে যাদের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে তাদের আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে, বন্ধ হয়ে গেছে রান্নার চুলাও।

​স্থানীয় বাসিন্দা বিমান মৈত্র আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের এই এলাকার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। ঘর থেকে থালা বাটি দিয়ে সেচে পানি বের করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই নরকযন্ত্রণা সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ আজ পর্যন্ত দেখিনি।

​জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। মুদি দোকানি সজল রায় জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ক্রেতারা আসতে পারেন না, ঠিকমতো বেচাকেনাও হয় না। এমনকি কোনো রিকশাচালকও এই এলাকায় ঢুকতে চান না।

​নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অত্র এলাকার নালানর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং স্থানীয়দের যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার মানসিকতাই এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ। পাশাপাশি স্থানীয় পুকুর ও জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

​এদিকে দীর্ঘদিন পানিতে জমে থাকার ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

​জলাবদ্ধতার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কালি কৃষ্ণ পাল বলেন, পৌরসভা থেকে কিছুদিন আগেও ওই এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল। এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় সাময়িকভাবে পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা দ্রুতই আরও প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

​তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসকে পর্যাপ্ত মনে করছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা জানান, অস্থায়ী পদক্ষেপ নয় বর্ষায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে পানিনিষ্কাশন এবং একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রীতম দাস/ নীরব

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad