হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ আসামী শতাধিক

হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা: জেলা ছাত্রদল সভাপতিসহ আসামী শতাধিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

৩০/০৭/২০২৬ ১৭:২০:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এনসিপির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার নম্বর-২৯। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের জুয়েল।

মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আশরাফুজ্জামান রিয়াদ, আসিফুল ইসলাম ইমন, মোজাক্কির হোসেন ইমন, এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইসতিয়াক রহমান ইসতি, শেখ সাব্বির, নাজমুল হোসেন অভি ও রক্সি ইসলামসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীসহ এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। একই সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে।

১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে আসার পথে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ। পরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের সঙ্গে আলোচনার পর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার সকালে মামলাটি রুজু করা হয়।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “জুলাই আন্দোলনসহ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও আমি অসংখ্য মামলার প্রধান আসামি হয়েছি। অথচ গতকালের ঘটনায় আমি বা আমার সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারপরও আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানাই। পাশাপাশি এটুকুই বলতে চাই, এনসিপির নেতৃবৃন্দ এবং শেখ হাসিনার সরকারের মধ্যে আর কোনো তফাত রইল না।”

তিনি আরও দাবি করেন, “এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে এসে বিএনপি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের সম্পর্কে উস্কানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। এতে ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই ছাত্র-জনতা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি বা ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যেই আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মীর্জা ইকবাল

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad