ছাতকে ট্রান্সফরমার স্থাপন নিয়ে উত্তেজনা, সাংবাদিককে গণপিটুনি
সুনামগঞ্জের ছাতকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ট্রান্সফরমার স্থাপনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ট্রান্সফরমার স্থাপনে বাধা ও ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আনোয়ার হোসেন রনি নামে এক সাংবাদিককে গণপিটুনি দিয়েছে ক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনার জেরে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ এলাকাবাসী।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর ও মাঞ্জিয়ারা গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর খুরমা ইউনিয়নের মাঞ্জিয়ারা গ্রামে পিডিবির একটি ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু করতে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ সময় আনোয়ার হোসেন রনি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কাজ শুরু করার অনুমতি দিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা গোবিন্দগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় জড়ো হয়। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে রনি উপস্থিত লোকজনকে গালিগালাজ ও হুমকি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়।
এর পরপরই দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে আলমপুর ও মাঞ্জিয়ারা গ্রামের কয়েকশ মানুষ সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের বুড়াইরগাঁও বাজারে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে রাত গভীর হওয়ার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত রনির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিডিবি’র ছাতক শাখার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ তারেক বলেন, “ট্রান্সফরমার সংকটের কারণে সংযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই এলাকায় ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।”
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ঝলক মহন্ত জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: