বন্ধ বিধবা ভাতা
মমতার নিয়তি! হবিগঞ্জে জীবিত থেকেও সরকারি সার্ভারে মৃত
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সার্ভারে জীবিত নারীকে ‘মৃত’ দেখানোর কারণে টানা কয়েক বছর ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিধবা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মমতা রানী সরকার (৫৮)। একাধিকবার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তিনি চরম মানসিক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তবে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, সার্ভারে ভুল তথ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া অথবা দীর্ঘদিন ভাতার টাকা উত্তোলন না করার কারণেই এমনটি হয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, মমতা রানী সরকার লাখাই উপজেলার লাখাই ইউনিয়নের পূর্ব রুহিতনসী গ্রামের মৃত সুবোধ সরকারের স্ত্রী। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কয়েক বছর আগে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।
মমতা রানী জানান, ২০০৮ সালের জুন মাস থেকে তিনি বিধবা ভাতা পাচ্ছিলেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১ জুলাই ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে তাকে জানানো হয়, সরকারি সার্ভারে তাকে ‘মৃত’ ও ‘নিখোঁজ’ হিসেবে দেখাচ্ছে। ফলে, তার নামে আর বিধবা ভাতা দেওয়া সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী বলেন, ‘বছরের পর বছর সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘুরছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ সমস্যার সমাধান করে দেয়নি। জীবিত থেকেও সরকারি কাগজে মৃত হয়ে থাকার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মমতা রানী কখনো নিখোঁজ হননি বা মারা যাননি। তিনি নিয়মিত এলাকায় চলাফেরা করছেন। তাদের প্রশ্ন- একজন জীবিত মানুষ বারবার নিজে উপস্থিত হওয়ার পরও কীভাবে তাকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো হয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য মো. বাহার উদ্দিন বলেন, ‘জীবিত একজন মানুষকে সরকারি সার্ভারে মৃত দেখানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে উপস্থিত হওয়ার পরও তথ্য সংশোধন না হওয়া চরম অবহেলার পরিচয় বহন করে।’
লাখাই ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এলাকায় নিয়মিত টিকা প্রদান করে থাকি। যখনই রুহিতনসী এলাকায় টিকা দিতে আসি তখনই মমতা রাণীকে দেখতে পাই। একজন জীবিত মানুষ কীভাবে মৃত হলো, সেটা আশ্চর্যের বিষয়।’
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আফজালুর রহমাম জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
জেলা সমাজসেবার উপ-পরিচালক রাশেদুজ্জামান চৌধুরী জানান, লাখাই উপজেলায় বারবার কর্মকর্তা বদল হচ্ছেন, তারপরও একজন জীবিত মানুষকে মৃত দেখানোর ভুল কখনো হতে পারে না। কেন এমনটি হলো, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী মমতা রানীকে দ্রুত তথ্য সংশোধন করে পুনরায় বিধবা ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: