ঘাতক সুমন প্রধান আটক
গোয়াইনঘাটে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার জেরে প্রতিবেশীর ঘুষিতে শ্রমিক নিহত
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী চাওড়াতল চা বাগানে নিজের আপন মেয়েকে ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করার জেরে প্রতিবেশীর সজোরে দেওয়া একক ঘুষির আঘাতে চৈতন্য গোয়ালা নামে এক মধ্যবয়সী চা শ্রমিক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন; আজ শনিবার (৬ জুন) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে চাওড়াতল চা বাগানের শ্রমিক লাইনের অভ্যন্তরে এই চাঞ্চল্যকর ও রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এই মর্মান্তিক নিহতের ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঘাতক প্রতিবেশী ও সহকর্মী চা শ্রমিক সুমন প্রধান (৪২)-কে ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে আটক করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় শ্রমিকদের প্রাথমিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় নিহত চৈতন্য গোয়ালা (৪৩) এবং পুলিশের হাতে আটক হওয়া সুমন প্রধান (৪২) দুজনেই মূলত চাওড়াতল চা বাগানের নিয়মিত নিবন্ধিত শ্রমিক; তারা ওই বাগানের শ্রমিক কলোনির পাশাপাশি দুটি সরকারি ঘরে দীর্ঘ দিন ধরে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী বাগান সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সুমন প্রধানের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে তার আপন প্রতিবেশী চৈতন্য গোয়ালা হুট করে একা পেয়ে অশালীন কথা বলে উত্ত্যক্ত ও ইভটিজিং করেন; মেয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে কান্নাকাটি করে বিষয়টি তার বাবা সুমন প্রধানকে জানালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। এই জঘন্য ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করতে গেলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে প্রথমে তুমুল কথা কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে তা সরাসরি মারামারিতে রূপ নেয়; ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সুমন প্রধান চরম ক্রোধান্বিত হয়ে চৈতন্য গোয়ালার বুকে ও মুখে লক্ষ্য করে সজোরে একের পর এক কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনের সেই উপর্যুপরি শক্তিশালী ঘুষির আঘাতে চৈতন্য গোয়ালা তাৎক্ষণিকভাবে মাটির মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান; এ সময় পুরো কলোনি জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় চা শ্রমিকরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে এবং বাগানবাসীর সহায়তায় ঘাতক সুমন প্রধানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “চাওড়াতল চা বাগানে মূলত একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে প্রতিবেশী কর্তৃক ইভটিজিং বা উত্ত্যক্ত করার জেরে এই আকস্মিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে; খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করেছে এবং ঘটনার মূল হোতা ও অভিযুক্ত প্রতিবেশী সুমন প্রধানকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনানুগ ও বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: