মাধবকুণ্ডের পাশেই নিভৃত পরিকুণ্ড জলপ্রপাত, পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বিশ্বখ্যাত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের ঠিক পাশেই পাথারিয়া পাহাড়ের নিভৃতে বয়ে চলা আরেক অপরূপ সৌন্দর্যের নাম ‘পরিকুণ্ড’ জলপ্রপাত, যা একসময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ভ্রমণপিপাসুদের নতুন এক প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া পাহাড়ের বুক চিরে প্রায় ১৫০ ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে পরিকুণ্ডের শীতল জলধারা, যা মাধবকুণ্ডের তুলনায় কিছুটা নির্জন ও শান্ত হওয়ায় এই প্রাকৃতিক নৈশব্দ্যই এখন অনেক রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটককে টেনে আনছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই পরিকুণ্ডের কথা সাধারণ পর্যটকেরা জানতেন না এবং এর পরিচিতি মূলত অভিযাত্রী ও স্থানীয় তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; তবে সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউবে ঝরনাটির নান্দনিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং এখন সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিকুণ্ডে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। মাধবকুণ্ডের শিবমন্দিরের বিপরীত দিকের পাহাড়ি ছড়া ও পাথুরে ঝিরিপথ ধরে কিছুটা পথ হেঁটে গেলেই দেখা মেলে এই নয়নাভিরাম জলপ্রপাতের, যা বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সাদা জলধারায় এক অন্যরকম রূপ ধারণ করে। সিলেট থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শ্যামল কান্তি বৈদ্য পরিকুণ্ডের শান্ত পরিবেশ ও পাথুরে পথ পাড়ি দেওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেন। তবে ঝরনাটিকে কেন্দ্র করে পর্যটক বাড়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পরিবেশ নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ অসচেতন পর্যটকদের ফেলে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য ও খাবারের প্যাকেটে ঝরনা এলাকার জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
পরিবেশবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারিভাবে পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে পরিকুণ্ড জলপ্রপাত আগামী দিনে দেশের অন্যতম শীর্ষ ও আকর্ষণীয় পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: