নুরের মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রাশেদ খানের
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে গণ অধিকার পরিষদের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা ‘গুপ্ত জাশি’ (জামায়াত-শিবির) চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই চক্রের মানসিক অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের কারণেই তিনি এক সময় দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। রাশেদ খানের মতে, এনসিপি এবং গণ অধিকার পরিষদ—উভয় দলকেই নিজস্ব রাজনীতি করতে না দিয়ে জামায়াত-শিবির আষ্টেপৃষ্ঠে চেপে ধরেছে।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে তরুণদের রাজনীতির যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, জামায়াত-শিবির সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ৯ দফার ঘোষণা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিলেও আব্দুল কাদের যাতে ডাকসুর ভিপি হতে না পারেন, সেজন্যও এই চক্রটি একযোগে কাজ করেছিল। রাশেদ খানের দাবি, এনসিপির প্রায় ৮০ শতাংশ নেতাকর্মীই জামায়াত-শিবিরের আদর্শ থেকে আসা, যারা কোনোভাবেই দলটিকে স্বাধীনভাবে দাঁড়াতে দেবে না। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে যখন তিনি জামায়াতের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের সংযুক্তির পরিকল্পনায় রাজি হননি, তখন তাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপে রাখা হয়েছিল। এমনকি ওই সময়ে নুরুল হক নুরকেও দল থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, “বর্তমানে গণ অধিকারের ভেতর থাকা জাশির কর্মীরা নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার মিশনে নেমেছে। তারা এখন নুরকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।” উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাশেদ খান এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং উদীয়মান রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর অন্য কোনো সংগঠনের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: