তাহিরপুরে ধান কাটার শ্রমিক সংকট: বিপাকে কৃষকরা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিরাতেই বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের নিচু জমিতে পানি জমে গেছে, যার ফলে আধুনিক হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় শ্রমিকই কৃষকদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ালেও চাহিদার তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই সুযোগে শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, যা প্রায় এক মণ ধানের মূল্যের সমান। এতে সোনালি ফসল ঘরে তুললেও লাভের মুখ দেখা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার ২৩টি হাওরের প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষায় এখন দ্রুত ধান কাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের নির্দেশনায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শ্রমিক সংকট কাটাতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন, ক্রয়-বিক্রয় এবং উপজেলার শুল্ক স্টেশনসমূহের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আজ ১৮ এপ্রিল সকালে যাদুকাটা নদী এলাকায় ভূমি কর্মকর্তা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত মাইকিং করা হয়েছে।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে মেশিন অকেজো হয়ে পড়ায় শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, আর এই সুযোগে মজুরি সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
তাহিরপুর আমদানিকারক সমিতির সভাপতি হাজি খসরুল আলম জানান, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও এরপর থেকে শুল্ক স্টেশনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার আগেই ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে শুল্ক স্টেশন ও বালু মহালের শ্রমিকরা ধান কাটার কাজে যুক্ত হলে সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করছেন হাওরপাড়ের ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: