স্বজনদের আহাজারি
ফেরিঘাটে ঘাটে বাসডুবি: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল সূত্রে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১৬ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু এবং ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। এর আগে বুধবার বিকেলে দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেছিলেন।
উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজা'র দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির অংশবিশেষ দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরো বাসটি ক্রেন দিয়ে টেনে ওপরে তোলা হয়। বাসটি উদ্ধারের সময় ভেতরে অসংখ্য স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল ও ভ্যানিটি ব্যাগ ভাসতে দেখা যায়, যা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষের চোখে জল আনে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এই বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন। বাসের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে ফোন করে দুর্ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাটে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে নদীর পাড়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: