বিএসএফের একের পর এক পুশইনের চেষ্টা রুখল বিজিবি

বিএসএফের একের পর এক পুশইনের চেষ্টা রুখল বিজিবি

প্রথম ডেস্ক

০৬/০৬/২০২৬ ১০:৩১:২১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধ উপায়ে পুশইন বা পুশব্যাক করার একের পর এক আগ্রাসী চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি); তবে ভারতের দিক থেকে আসা এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো গেলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান তীব্র জাতিগত সংঘাতের জেরে বান্দরবানের থানচি সীমান্তপথ দিয়ে দেশটির ৪৭ জন খুমি নাগরিকের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শেষ পর্যন্ত ঠেকানো যায়নি। বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পকৃতির ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বিএসএফের ১২ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একদল লোককে পুশইন করার চেষ্টা চালিয়েছিল; যে দলে মূলত ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশুসহ মোট ২৮ জন সাধারণ মানুষ ছিলেন। বিএসএফ সদস্যরা আন্তর্জাতিক সীমান্তের ২০৩/৫-আর পিলারের অত্যন্ত সংবেদনশীল কাছ দিয়ে জোরপূর্বক তাদের বাংলাদেশের ভেতরে ঠেলে দেয়; পরবর্তীতে ওই দলটি সীমান্ত রেখা পেরিয়ে বিজিবি বিওপি (Border Outpost) সংলগ্ন বেগুনবাড়ি গ্রামের ভেতরে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ঢুকে পড়লে স্থানীয় সজাগ বাংলাদেশিরা তাদের দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি জওয়ানদের খবর দেন। বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে পুনরায় সীমান্তের শূন্যরেখায় (Zero Line) ফেরত পাঠিয়ে দেয়; যার ফলে সেই সময় থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত তারা ওপার বিএসএফের বাধায় সীমান্তের শূন্যরেখায় চরম মানবেতর অবস্থায় অবস্থান করছিল। ঠিক একই দিনে দেশের বিভিন্ন দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের এমন আরও অন্তত ১০টি পৃথক পুশইনের অপচেষ্টা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করার তথ্য এক জরুরি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছে বিজিবি সদর দপ্তর; এর পাশাপাশি এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সীমান্তে অতিরিক্ত আধুনিক জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সামগ্রিক গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল বহুগুণ বাড়ানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

বিএসএফের এই ১০টি অবৈধ পুশইন কঠোরভাবে ঠেকানো গেলেও বাংলাদেশ-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বান্দরবানের থানচি দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তপথে ৪৭ জন খুমি আদিবাসী নাগরিকের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ শেষ পর্যন্ত রোখা সম্ভব হয়নি। বিজিবি জওয়ানদের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও কড়া টহলের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের যেকোনো কুয়াশাচ্ছন্ন সময়ে তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার অরক্ষিত সীমান্তের ৬৯ এবং ৭০ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের মধ্যবর্তী অতি দুর্গম এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় ঢুকে পড়ে; পরবর্তীতে পাহাড়ে গভীর খবর পেয়ে বিজিবি জওয়ানরা থানচির রেমাক্রী ইউনিয়নের হ্নৈকু খুমিপাড়া নামক একটি পাড়ায় বিশেষ চিরুনি অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারের খুমি জাতিগোষ্ঠীর ওই ৪৭ জন নাগরিককে অক্ষত অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় খুমি আদিবাসী ও সীমান্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী এই নাগরিকেরা মূলত মিয়ানমারের চিন রাজ্যের পালেতুয়া টাউনশিপের অন্তর্গত খানচালাংপাড়া এবং সাম্পিংপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা; মূলত ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় জান্তা বাহিনীর সাথে রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র তুমুল সামরিক যুদ্ধ ও সশস্ত্র তৎপরতা হঠাৎ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় খুমি সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও জীবননাশের ভয় ছড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধবিদ্ধস্ত ভয়াবহ জীবনদায়ী অবস্থায় প্রথম ধাপে কোনো উপায় না পেয়ে ওই ৪৭ জন খুমি নাগরিক নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঢুকে পড়ে আশ্রয় নেয়; তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন কঠোরভাবে মেনে চলার স্বার্থে বিজিবির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পিলার নাম্বার ৭০ এবং ৭১-এর মধ্যবর্তী যেকোনো একটি সুবিধাজনক ও নিরাপদ পয়েন্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বজায় রেখে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের মিয়ানমারে পুশব্যাক বা ফেরত পাঠানো হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: