সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালী
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও এডিস মশার বিস্তার রোধে সুনামগঞ্জে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল, সুনামগঞ্জের যৌথ উদ্যোগে জেলা শহরে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালীটি সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
র্যালী শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক। এ সময় জেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক কারণে সুনামগঞ্জ ডেঙ্গু ঝুঁকিমুক্ত নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, তবে শুধু সরকারি প্রচেষ্টায় এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য জনগণের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এডিস মশা ঘরের ভেতরে বা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সচেতন হতে হবে। প্রত্যেকের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা এবং কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে—তা নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে না পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।
মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এই লক্ষ্যে সদর হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার ও পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম এই নীতি মেনে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন।
জনস্বার্থে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক র্যালী ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত তদারকি ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে জেলাকে ডেঙ্গু মুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
প্রীতম দাস/এআর
মন্তব্য করুন: