জকিগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষায় গভীর সংকট

শূন্য পদ, নেতৃত্বহীনতা ও মান-পতনের শঙ্কা

জকিগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষায় গভীর সংকট

নিজস্ব প্রতিনিধি, জকিগঞ্জ

৩১/১০/২০২৫ ১৪:১৯:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে মাধ্যমিক শিক্ষায় নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। একের পর এক অভিজ্ঞ শিক্ষক অবসরে গেলেও শূন্য পদে নিয়োগ না হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনিক নেতৃত্বহীনতা, শিক্ষক সংকট ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এলাকার শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।


অভিজ্ঞ নেতৃত্বহীনতায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা

২০২৩ সালে সাজ্জাদ মজুমদার বিদ্যানিকেতন ও জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ ও ৩০ অক্টোবর গণিপুর কামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও অবসর নেন। এতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতৃত্ব হারিয়ে শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা।


আগে পরিচালনা কমিটি থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকলেও এখন তা সরাসরি এনটিআরসি-র মাধ্যমে হতে হচ্ছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়ে সিলেটের বহু প্রতিষ্ঠান কার্যত প্রশাসনিকভাবে নেতৃত্বহীন অবস্থায়।


শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত

জকিগঞ্জের প্রায় সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সংকট গুরুতর রূপ নিয়েছে। শুধু জোবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই ১০টি পদ শূন্য, আর গণিপুর কামালগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪টি। অনেক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ৮–১০ জন শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


“জেলা কোটায় নিয়োগ ছাড়া সমাধান নেই”

চারখাই বাগবাড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম বলেন,“দূরবর্তী উপজেলা থেকে প্রতিদিন ৩০–৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ক্লাস নিতে আসা সম্ভব নয়। জেলা কোটায় শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এই সংকট দূর হবে না। অস্থায়ী মাস্টাররোলে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোনোভাবে ক্লাস চালাচ্ছি, কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান নয়।” তিনি আরও জানান, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অভাব ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


শিক্ষা বিশ্লেষকদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দূর করতে এখনই নিচের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—যোগ্য শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জেলা কোটায় দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা,শূন্য পদ পূরণে জোরদার প্রশাসনিক তৎপরতা,অবসরের পর অস্থায়ী নিয়োগ ব্যবস্থা চালু রাখা যাতে পাঠদান ব্যাহত না হয়।


ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জকিগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয় শিক্ষাবিদদের।


সিলেটবাসীর প্রত্যাশা—কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার এই সংকট উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাবে শিক্ষার অবনতি থেকে।

রোদ্দুর রিফাত

মন্তব্য করুন: