জগন্নাথপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে টানা ছয় দিনের পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। সেই সঙ্গে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়, বিকাল ৫টা পৌর সদরের সুইচ গেইটে একে একে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়ে সন্ধার পর পর্যন্ত চলে নরজুল নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।
বাদ্যের তালে তালে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো নদীর তীরে আনা হয়। এ সময় চারদিকে ছিল বিষাদের সুর।
ভক্তদের কারো চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারো ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করেন। কেউবা নদীর পানি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৩৯টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি সর্বজনীন এবং ৩টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ ছিল। উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুরের আখড়াবাড়ি পূজামণ্ডপ। প্রতিবছর এ মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক ভক্ত, দর্শনার্থী ও পূজার্থীর সমাগম ঘটে।
৩৯টি পূজামণ্ডপে মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রে ফিক্সড পুলিশ ডিউটি পালন করে। প্রত্যেকটা পূজামণ্ডপে ৯ থেকে ১২জন আনসার সদস্য ছিল। এছাড়া ও ৩৯টি পূজামণ্ডপে ৬টি মোবাইল টহলে দায়িত্বপালন করছে। পৌর পয়েন্ট ও চিলাউড়া পয়েন্ট ও চেকপোষ্ট নিয়মিত চেক করা হয়।
উপজেলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক বিভাশ দেব জানান, দশমীর লগ্ন শুরু হয়ে যাওয়া মানেই মন খারাপের শুরু। খুব কষ্ট লাগছে, মা চলে যাচ্ছেন। এই কয়েক দিন মা ছিলেন, তাই আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে চাওয়া, মা যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন। সবাইকে ভালো রাখেন।
এই কয়েকটা দিন ছিল খুবই আনন্দের। মা দুর্গা তাদের মাঝে ছিলেন, তাই চারপাশ আনন্দে ভরে উঠেছিল। কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছর মায়ের আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: