জৈন্তাপুরে বালু উত্তোলন অভিযোগে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত

জৈন্তাপুরে বালু উত্তোলন অভিযোগে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি, জৈন্তাপুর

০২/০৮/২০২৬ ১৭:০৩:০৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহাল থেকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পরিচালিত এ পরিদর্শনে সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন দলে ছিলেন জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। তারা সারি-৩ ও বড় গাং বালুমহাল ঘুরে দেখেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে কোনো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা তাদের ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন হচ্ছে না। তবে বড় গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌযানগুলো সারিঘাটে যাতায়াতের জন্য সারি-৩ নদীপথ ব্যবহার করে।

বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড় গাং বালুমহাল থেকে সারিঘাটে পৌঁছাতে সারি-৩ নদীপথই একমাত্র চলাচলের পথ।

ইজারাদারদের ভাষ্য, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই নদীপথে নৌযান চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ বিষয়ে তারা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। তাদের দাবি, এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপথে নৌযান চলাচলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।

এ ছাড়া ইজারাদারদের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি অবৈধ তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের কাছে অর্থ দাবি করছেন। বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা অযৌক্তিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

পরিদর্শনকালে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। নৌপথে বৈধভাবে বালু পরিবহনে কোনো বাধা নেই। তবে লালাখাল দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা হওয়ায় বালুবাহী নৌযানগুলোকে নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার এবং পর্যটকদের চলাচলে যেন কোনো ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সারি-৩ বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, অতীতেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সাইফুল ইসলাম বাবু /আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad