সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ২

সুনামগঞ্জে হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ২

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

৩০/০৭/২০২৬ ২১:১৫:১৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতকে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তফা আনোয়ার এনাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই গ্রামের মৃত নুর মিয়ার ছেলে মো. দবির হোসেন, মৃত আব্দুস সালামের ছেলে সিহাব মিয়া এবং দবির হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার লাভলী। আসামিদের মধ্যে আছমা আক্তার লাভলী পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

অন্যদিকে, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— নোয়ারাই এলাকার মৃত নুর মিয়ার ছেলে মো. কবির মিয়া ওরফে মো. কবির আহমদ এবং সিলেট নগরীর ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলীর ছেলে মো. আবদুর রাজ্জাক।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে নিহত মোস্তফা আনোয়ার এনামের পরিবারের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২০২১ সালের ১৩ মে বিকেলে (ইফতারের পূর্বে) আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোটা নিয়ে এনামের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মে দুপুরে মারা যান এনাম।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফা জুবায়ের বাদী হয়ে ছাতক থানায় (মামলা নং-১৯, তারিখ: ১৬/০৫/২০২১) একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে বিচার পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সালেহ আহমদ, অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হামিদ এবং অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর গাফফার।

লতিফুর রহমান রাজু/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad