সিলেটে বন্যা ও টিলা ধসের ঝুঁকিতে প্রস্তুত ৫৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

সিলেটে বন্যা ও টিলা ধসের ঝুঁকিতে প্রস্তুত ৫৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৯/০৭/২০২৬ ১৪:৪২:৫৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে আকস্মিক বন্যা এবং টিলা ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জেলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে।


সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নামছে পাহাড়ি ঢল। এর প্রভাবে সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানিও কানাইঘাট ও অমলশিদ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকিতে রয়েছে।


ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা জানান, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং চলছে এবং সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, আগামী ৩-৪ দিন ভারতের মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) হতে পারে। তবে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।


এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার জানান, সরকারি হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ১৬০টি বলা হলেও বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রায় ৩৮৬টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে বাস করছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নির্বিচারে টিলা কাটা বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের দাবি জানান।


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনও (সিকিক) ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সিকিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। নিচু এলাকায় পানি উঠলে দ্রুত উদ্ধার ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

আর আর

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad