রীতি পরিবর্তনের পর দ্বিতীয়বার খুলছে শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্স

শনিবার গণনা

রীতি পরিবর্তনের পর দ্বিতীয়বার খুলছে শাহজালাল (র.) মাজারের দানবাক্স

প্রথম সিলেট প্রতিবেদন

০৯/০৭/২০২৬ ১৪:১১:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) আবারও প্রকাশ্যে খোলা হবে মাজারের দানবাক্সগুলো। সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে সবার উপস্থিতিতে এই অর্থ গণনা করা হবে।


বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।


তিনি জানান, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমার মধ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির দুই দফা বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।


রেজাউল হাসান কয়েস লোদী আরও বলেন-আগামী শনিবার দুপুর ১২টায় মাজারের দানবাক্স সবার উপস্থিতিতে খোলা হবে। প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পুরো অর্থ জমা দেওয়া হবে।


তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কমিটির এই স্বচ্ছ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সমস্ত বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সুষ্ঠু সমাধান মিলবে।


এর আগে মাজারের দীর্ঘ প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে গত ১২ জুন প্রথমবারের মতো অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেয় সিলেট জেলা প্রশাসন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ জুন মাজারের পুরোনো তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করা হয়।


পরবর্তীতে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো সবার উপস্থিতিতে সিলগালা করা মাজারের তিনটি ঐতিহ্যবাহী দানের ডেক ও একটি দানবাক্স খোলা হয়। প্রকাশ্যে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা একটি নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।


প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায় ও ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এক পক্ষ এটিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানালেও, অন্য পক্ষ মাজার পরিচালনায় প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।


এই প্রেক্ষাপটে, মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণের জন্য গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসক এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


অথৈ/ ডিডি

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad