শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ময়লার ভাগাড়!

চরম ভোগান্তি রোগীদের

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ময়লার ভাগাড়!

নিজস্ব প্রতিনিধি, শাল্লা

১৩/০৬/২০২৬ ১৩:০৫:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলেই মনে হবে না এটি একটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র; বরং মনে হবে দীর্ঘদিনের অযত্নে পড়ে থাকা কোনো ময়লার ভাগাড়। দুর্গন্ধ, আবর্জনা আর চরম অব্যবস্থাপনায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


হাসপাতাল চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ, চারদিকে ঝোপঝাড় আর আগাছা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতাদের মনে একটাই প্রশ্ন—এই হাসপাতাল দেখভালের দায়িত্বে আসলে কে আছেন?


স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হাসপাতালের সামনের মাঠে ধান ও খড় শুকিয়েছিলেন। বন্যার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই খড়কুটো ও ময়লা-আবর্জনা এখনও অপসারণ করা হয়নি। হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা এই বর্জ্য পচে এখন তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।


এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করিডোরে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ফেলে রাখায় পরিবেশ দিন দিন আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। রোগ নিরাময়ের জায়গায় এমন নোংরা পরিবেশ উল্টো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।


হাসপাতালের সবচেয়ে উদ্বেগজনক সমস্যা হলো বিশুদ্ধ পানির সংকট। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সবকটি টিউবওয়েল দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে রোগী ও তাদের স্বজনদের বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির এমন তীব্র সংকটকে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব বিশ্বাস বলেন, "রোগীরা ওপর থেকে নিচে আবর্জনা ফেলে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অনেকেই তা শোনেন না। এছাড়া হাসপাতালে কিছু ভাঙা আসবাবপত্র জমে আছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বা অনুমতি ছাড়া অপসারণ করা সম্ভব নয়।"


তবে ডা. রাজিবের এমন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন—রোগীরা অসচেতনভাবে ময়লা ফেললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কি কোনো দায় নেই? নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বর্জ্য অপসারণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কি হাসপাতাল প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?


এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এমন নাজুক পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাল্লা উপজেলা হাসপাতালটি রোগীদের সুস্থ করার বদলে নতুন রোগ ছড়ানোর উৎসে পরিণত হবে। হাসপাতালটির স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিশিকান্ত সরকার / তাহির আহমদ

মন্তব্য করুন: