এই প্রথম সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ
ইসলামিক জ্ঞানচর্চা ও ভাষাগত ঐতিহ্যের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে এই প্রথমবারের মতো সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদ (তরজমা) করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই উদ্যোগটির প্রথম খণ্ড সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মীয় জ্ঞানকে আরও সহজ ও সাবলীলভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। প্রমিত বাংলা ভাষায় কোরআনের বহু অনুবাদ থাকলেও, সম্পূর্ণ আঞ্চলিক ভাষা ও কথ্যরীতির মাধুর্য বজায় রেখে করা এই অনুবাদ সাধারণ মানুষের অন্তরে কোরআনের বাণীকে আরও গভীরভাবে অনুধাবনে সাহায্য করবে।
একটি অঞ্চলের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য ও ব্যাকরণ অক্ষুণ্ণ রেখে পবিত্র কোরআনের মতো সংবেদনশীল মহাগ্রন্থের অনুবাদ করা অত্যন্ত দূরূহ কাজ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দলের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ইতিহাসবিদ ড. মমিনুল হক এবং ক্বারী আলিম উদ্দিন চৌধুরী।
বর্তমানে এই বৃহৎ প্রকল্পের প্রথম খণ্ডটি (১ থেকে ১০ পারা) সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ অনুবাদের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অনুবাদের তথ্যটি প্রকাশের পর থেকে সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেটের বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনেকেই এটিকে সিলেটি ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইসলামিক সাহিত্যের ইতিহাসে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভাষাবিদ ও গবেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভাষার এই অনন্য অনুবাদ শুধু ধর্মীয় জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সিলেটের নিজস্ব ভাষাগত ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মীর্জা ঈকবাল
মন্তব্য করুন: