যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে সোহেল ও দুররানী এর প্রতারণা

কমলগঞ্জে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে সোহেল ও দুররানী এর প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৬/০৬/২০২৬ ০৯:৩৮:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ‘আইপাস এডুকেশন’ (iPASS Education) নামের একটি ইংরেজি কোচিং সেন্টারের আড়ালে যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মূল হোতা সোহেল আহমেদ ও তাঁর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সহযোগী দুররানী খানের প্রতারণার শিকার হয়ে কমলগঞ্জের বহু মানুষ এখন নিঃস্ব। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মখলিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আহমেদ একসময় অত্যন্ত অভাবের মধ্যে দিনাতিপাত করতেন। কিন্তু সম্পৃক্ত হওয়ার পর রাতারাতি তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। বিপুল অর্থবিত্তের পাশাপাশি তিনি বিলাসবহুল বাড়ির মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘আইপাস এডুকেশন’ কোচিং সেন্টারের শিক্ষকতার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মানবপাচার ও ভিসা বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহেল আহমেদের এই চক্রের মূল সহযোগী হলেন উপজেলার রামপাশা গ্রামের খান বাড়ির বাসিন্দা ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুররানী খান। তিনি যুক্তরাজ্যে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে এই জাল ভিসা চক্রটি পরিচালনা করেন।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চক্রটি কমলগঞ্জের সহজ-সরল মানুষকে যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসায় আকর্ষক চাকরির প্রলোভন দেখাত। এজন্য জনপ্রতি ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। স্বপ্নের দেশে যাওয়ার আশায় অনেকেই পৈতৃক ভিটেমাটি, জমিজমা বিক্রি করে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই টাকা সোহেল ও দুররানীর হাতে তুলে দেন।


টাকা দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন যে, যেসব কেয়ার কোম্পানির নামে তাঁদের ভিসা দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। ফলে সেখানে গিয়ে চাকরি তো দূরের কথা, থাকার জায়গা ও খাবারের সংকটে পড়ে চরম বেকারত্ব ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। দেশে থাকা পরিবারগুলো এখন ঋণের বোঝা টানতে গিয়ে দিশেহারা।


প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবার সোহেল আহমেদের কাছে টাকা ফেরত বা জবাব চাইতে গেলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে থাকা দুররানী খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ বন্ধ (ব্লক) করে দেন। উল্টো কোম্পানি পরিবর্তনের কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আবারও নতুন করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


ভুক্তভোগীদের দাবি, সোহেল আহমেদ শিক্ষকতার আড়ালে সুকৌশলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন। বর্তমানে এই চক্রটি অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় এবং প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হতেও ভয় পাচ্ছেন।


অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সোহেল আহমেদ মানবপাচারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে তিনি বিতর্কিত দাবি করে বলেন,"এলাকার অদক্ষ ও ইংরেজি না জানা মানুষদের জন্য ভুয়া সার্টিফিকেট ও জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরি করে তিনি বিদেশ পাঠাতে সহায়তা করেছেন। এটি অপরাধ নয়, বরং এক ধরনের সমাজসেবা এবং এর বিনিময়ে নেওয়া অর্থ তাঁর কাজের পারিশ্রমিক।"


অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুররানী খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


এই জালিয়াতির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কমলগঞ্জ জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই চক্রের শাস্তির দাবি উঠছে। আর কেউ যেন এমন লোভনীয় কেয়ার ভিসার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব না হারান, সেজন্য সকলকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন: