বিয়ানীবাজারে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

বিয়ানীবাজারে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার

০৫/০৬/২০২৬ ১২:১৫:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়া এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা পরিবেশবান্ধব সরকারি মূল্যবান গাছ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে কেটে সাবাড় করার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজির উদ্দিনের বিরুদ্ধে; এই চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মো. ছাব্বির উদ্দিনের পক্ষে তাঁর স্থানীয় প্রতিনিধি বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় এলজিইডি সূত্র থেকে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার-সারপার সড়কের ঐতিহ্যবাহী ধরমপুরী সেতু থেকে শুরু করে সারপার বাজার পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কের দুই পাশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় রোপণ করা বড় বড় গাছের বৈধ ও সরকারি লিজধারী বা অংশীদার হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. ছাব্বির উদ্দিন; তিনি এলজিইডির সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ও চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত যত্ন সহকারে ওই গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করে আসছিলেন। লিখিত অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, গত ২৭ মে (২০২৬) পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির ঠিক আগে আগে মো. মজির উদ্দিন নিজের বাড়ির সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে থাকা সামাজিক বনায়নের কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান ও বড় গাছ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কেটে আত্মসাৎ ও পাচার করে ফেলেন, যার ফলে লিজধারী প্রবাসীর ও সরকারি সম্পত্তির আনুমানিক প্রায় ৮০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে জোরালো দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সরকারি গাছ কাটার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত মজির উদ্দিন উল্টো নিজের সীমানা প্রাচীরের সামান্য ক্ষতির খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে প্রবাসীর স্বজনদের সাথে চরম অশালীন, অসভ্য ও উগ্র আচরণ করেন; শুধু তাই নয়, লিজধারী মূল মালিক প্রবাসী ছাব্বির উদ্দিন অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকা থেকে স্বদেশে ফিরলে তাঁকে দেখে নেওয়া ও প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, যে সড়কের পাশের জমিতে এই সরকারি গাছগুলো এক দশক আগে রোপণ করা হয়েছিল, সেটি মূলত একটি বড় যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট ওই পৈতৃক সম্পত্তিতে অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারেরও আইনগত ও শরিকানা অংশীদারিত্ব রয়েছে; অভিযোগে আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও বেআইনি পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই গভীর রাতে এই গাছগুলো নির্বিচারে কাটা হয়েছে। এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে সামাজিক বনায়নের আওতাভুক্ত ও পরিবেশের বন্ধু এমন বড় বড় সরকারি গাছ রাতের আঁধারে কাটার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ অভিযোগে পুরো বিয়ানীবাজার উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; এলাকার পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সরকারি সম্পদের সরাসরি অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে, অন্যদিকে তেমনি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কার্যক্রমের সাফল্যের জন্যও এক বড় ধরনের স্থায়ী হুমকি সৃষ্টি করে।

বর্তমানে এই জঘন্য ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর দণ্ডবিধি ও পরিবেশ আইনে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রধান কার্যালয়ে ছাব্বির উদ্দিনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে; পাশাপাশি ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি অবগতির জন্য বিয়ানীবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড, বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) কার্যালয়েও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর তীব্র প্রত্যাশা, স্থানীয় প্রশাসন যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্ত সম্পন্ন করে মূল দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেয় এবং ভবিষ্যতে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ নিধনের মতো এমন পরিবেশবিরোধী অপরাধ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই স্পর্শকাতর ও বনায়ন ধ্বংসের বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার গণমাধ্যমের কাছে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “উপজেলা প্রশাসন বা এলজিইডির পক্ষ থেকে স্থানীয় কাউকে সড়কের কোনো গাছ কাটার বিন্দুমাত্র অনুমতি প্রদান করা হয়নি; বিষয়টি সরকারি সম্পত্তি ও পরিবেশের সাথে জড়িত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লিখিত অভিযোগটি আমলে নিয়েছি এবং বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত ঘটনাস্থল সরেজমিনে তদন্ত করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।”


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad