কমলগঞ্জে মোগল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন কেরামত আলী জামে মসজিদ

সম্প্রসারণের দাবি স্থানীয়দের

কমলগঞ্জে মোগল স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন কেরামত আলী জামে মসজিদ

প্রথম ডেস্ক

০২/০৬/২০২৬ ১২:২৩:৩২

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র ভানুগাছ বাজারে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও দৃষ্টিনন্দন আলহাজ কেরামত আলী জামে মসজিদ, যা মোগল স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত হয়ে বর্তমানে এ অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও দানবীর আলহাজ মো. কেরামত আলী ১৯৬৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন, যিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে এমএলএ এবং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক জীবনের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারাবরণও করেছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের মাঝখানে একটি বড় এবং দুই পাশে দুটি ছোট গম্বুজের চমৎকার সমন্বয় রয়েছে এবং মসজিদটির সৌন্দর্য বর্ধনে ইরান থেকে আনা মূল্যবান পাথর, মার্বেল ও টেরাকোটার নিপুণ কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ইসলামী জ্যামিতিক নকশা। প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই মসজিদের ভেতরের প্রশস্ত নামাজঘরের প্যান্ডেল আকৃতির ছাদটি বিশেষ কৌশলে তৈরি, যা প্রচণ্ড গরমেও ভেতরের পরিবেশকে প্রাকৃতিকভাবে শীতল রাখে; এ ছাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে রয়েছে বড় একটি পুকুর, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসন সুবিধা।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া শফি ও সাবেক কাউন্সিলর মোহিত কামাল মিয়া মসজিদটির ভেতরের আত্মিক প্রশান্তি ও নান্দনিকতার প্রশংসা করে এটি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের দাবি জানান, পাশাপাশি জুমার দিনে তীব্র স্থানসংকুলান না হওয়ায় নিয়মিত মুসল্লিরা ঐতিহাসিক এই মসজিদটি দ্রুত সম্প্রসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন। ১৯৬৯ সালে আলহাজ মো. কেরামত আলীর মৃত্যুর পর তাকে তারই প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাশে সমাহিত করা হয় এবং স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সঠিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচার-প্রচারণা পেলে এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনাটি দেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: