বড়লেখায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তীব্র জলাবদ্ধতা

বড়লেখায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তীব্র জলাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

২৫/০৫/২০২৬ ১২:৪৪:৩০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে; এর ফলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক, লোকালয় ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কয়েক হাজার বাসিন্দা। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বড়লেখায় এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলেও স্থায়ী কোনো টেকসই সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে প্লাবিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত শুক্র ও শনিবারের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাতে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং এর ফলে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দূরপাল্লার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন। অনেক স্থানে পানি ঢুকে ছোট ছোট সিএনজি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রীদের বুকসমান পানিতে নেমে গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পার হতে দেখা গেছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বড়লেখা পৌরশহরের ষাটমাছড়া এলাকার একটি প্রধান প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ ভেঙে আকস্মিক পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে, যার ফলে শহরের উত্তর চৌমুহনী ও হাটবন্দ এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বাসাবাড়ি ও কলোনিগুলোতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি প্রবেশ করায় বহু পরিবার বর্তমানে সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে চরম খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অপরদিকে, আকস্মিক এই ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক হেক্টর জমির চলতি মৌসুমের আউশের বীজতলা এবং সদ্য রোপিত কচি আউশ ধানের খেত সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে, যার কারণে ধারদেনা করে চাষ করা প্রান্তিক কৃষকদের মনে ফসল হারানোর তীব্র উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন কৃষকদের আশ্বস্ত করে জানান, “ডুবো জমিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি পানি নেমে যায়, তবে আউশের বীজতলা ও আউশ ধানের তেমন একটা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই; আমরা মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।” উদ্ভূত বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত শনিবার (২৩ মে) দুপুরে প্লাবিত বিভিন্ন এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুব জানান, “টানা দুই দিনের অভূতপূর্ব ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও পৌর শহরের কিছু স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে; আমরা প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয়দের খোঁজ নিয়েছি এবং অবরুদ্ধ পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিষ্কারসহ জরুরি বেশ কিছু প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।” তবে প্রশাসনের এই আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা; তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ— পানি নিষ্কাশনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ব্যবস্থা, ছড়াগুলোর অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং একটি আধুনিক টেকসই ড্রেনেজ পরিকল্পনার চরম অভাবের কারণেই প্রতি বছর বর্ষা এলেই বড়লেখার সাধারণ মানুষকে নিয়তি হিসেবে এই একই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: