প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
‘রাষ্ট্রের একজন নাগরিকও যেন টাকার অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ‘অ্যাকসেস টু জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে, এটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য নয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ন্যায়বিচারকে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। দীর্ঘ দেড় দশক পর মানুষ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এই যাত্রা সুসংহত করতে রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আমাকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। তখন দেখেছি, বহু মানুষ কেবল টাকার অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারান্তরীণ রয়েছেন। এমন পরিস্থিতি নিরসনে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচিকে আরও জোরদার করেছে।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি কেবল আদালতের বিষয় নয়, এটি একটি জীবন্ত মূল্যবোধ। ‘ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার’—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকার মামলা শুরুর আগেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার বিরোধ স্বল্প সময়ে ও বিনা খরচে আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা বিচার বিভাগের ওপর চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাসকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করেন। এছাড়া লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে মনোনীত করা হয় এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসান বক্তব্য রাখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী একটি ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: