ধ্বংসের মুখে শতকোটি টাকার সম্পদ
৪৪ বছর ধরে বন্ধ চুনারুঘাটের ঐতিহ্যবাহী বাল্লা রেলপথ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চা-শিল্প ও জনজীবনের একসময়ের প্রাণকেন্দ্র ‘বাল্লা রেলপথ’ এখন কেবলই ইতিহাসের সাক্ষী। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই রেলপথটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত থাকায় এর অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। লুট হয়ে গেছে রেলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ, আর রেলের বিশাল জমি চলে গেছে অবৈধ দখলদারদের কবলে।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, ১৯২৮-২৯ সালে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে চুনারুঘাট থেকে সীমান্তবর্তী বাল্লা পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। হবিগঞ্জ বাজার থেকে বাল্লা পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে মোট ১১টি স্টেশন ছিল। চুনারুঘাট উপজেলার অন্তত ২২টি চা-বাগানের চা রপ্তানি এবং শ্রমিকদের রেশন ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের একমাত্র সাশ্রয়ী মাধ্যম ছিল এই ‘বাল্লা লোকাল’ ট্রেন। স্বাধীনতার পর ভারত থেকে শরণার্থী ফিরিয়ে আনতেও এই ট্রেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্যে রেলপথটির পতন শুরু হয়। বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন ও ক্রমাগত লোকসানের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হওয়ায় ট্রেনের গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ১৫ কিলোমিটারে নেমে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ১৯৮০-এর দশকে প্রথমবারের মতো ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়। পরে ১৯৯১ সালে পুনরায় বন্ধ হওয়ার পর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছুদিন চললেও ২০০২-০৩ সাল থেকে এই রুটে স্থায়ীভাবে চাকা ঘোরা বন্ধ হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় রেলপথের সিগন্যাল বাতি, রেললাইন ও স্টেশনের মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। রেলের জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু রেল কর্মচারী রেলের জমি ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। ১৯৯৬ সালে রেলপথটি পুনরায় চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। স্থানীয়দের দাবি, বাল্লা রেলপথ পুনরায় চালু হলে চুনারুঘাটের চা-শিল্প ও অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল বলেন, “বাল্লা লোকাল ট্রেন এখন আমাদের কাছে কেবল স্মৃতি। এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং রেলপথটি পুনরায় সচল করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
এ রহমান
মন্তব্য করুন: