অনুকূল আবহাওয়ায় ২৭ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে দেশে আমের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও মাঠ পর্যায়ের চাষিদের মতে, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আম উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। আজ মঙ্গলবার কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং মে মাস থেকে আম সংগ্রহ শুরু হবে।
ডিএই’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবহাওয়া সহায়ক থাকায় এবার তা অতিক্রম করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম রপ্তানি করে রেকর্ড গড়েছিল। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, এবার রপ্তানির পরিমাণ ৩ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, ইতালি, সৌদি আরব ও কানাডার পাশাপাশি নতুন করে মালয়েশিয়া ও জাপানের বাজারেও আম পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত বছর প্রথমবারের মতো চীনেও আম রপ্তানি শুরু হয়।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, সাতক্ষীরা ও দিনাজপুরের মতো প্রধান উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে এখন পর্যন্ত আমের গুটি ও মুকুলের অবস্থা অত্যন্ত ভালো। তিনি বলেন, “কালবৈশাখী ঝড়ে বড় ক্ষতি না হলে উৎপাদন ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন রেকর্ড হতে পারে।” রংপুরের পীরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চাষিরা জানিয়েছেন, আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার মুকুল ও গুটি ঝরার হার অনেক কম।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে আমের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২১ লাখ ৪৩ হাজার টন, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ লাখ টন ছাড়িয়েছিল। মাঝখানে সামান্য ওঠানামা করলেও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন ২৭ লাখ টনের লক্ষ্যমাত্রাকে কেন্দ্র করে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। রপ্তানি বৃদ্ধি ও কৃষকদের সক্ষমতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: