চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মিলছে অর্ধেক
তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত মাধবপুরের জনজীবন
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গত এক সপ্তাহ ধরে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের প্রায় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে একদিকে যেমন কৃষিজমির সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আসন্ন পরীক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাধবপুরে ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটে শ্যালো মেশিন চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় কৃষকরা বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে এখন ফসলি জমি রক্ষা করাই দায় হয়ে পড়েছে। বেজুড়া গ্রামের কৃষক জালাল মিয়া জানান, পানির অভাবে অনেক জমি ফেটে যাচ্ছে, ফলে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রেও পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। চলমান প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার পাশাপাশি আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। মনতলা সরকারি শাহজালাল কলেজের পরীক্ষার্থী পুষ্পিতা ইসলাম ও সঈদ উদ্দিন ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের জাকিয়া আক্তার জলি জানান, প্রচণ্ড গরমে দিনের বেলা পড়াশোনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং রাতেও মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রোগীরা ভ্যাপসা গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন; ব্যাহত হচ্ছে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
হবিগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ৩২ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট, কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট। জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইউছুব আলী জানান, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম হওয়ায় এই লোডশেডিংয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি সংকট মোকাবিলায় গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: