ট্রেন থামে না এখানে, থেমে আছে সময়

বাহুবলের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন

ট্রেন থামে না এখানে, থেমে আছে সময়

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাহুবল

১৩/০১/২০২৬ ১৬:২২:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার চা–বাগানে ঘেরা এক নিরিবিলি প্রান্তরে দাঁড়িয়ে আছে লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন। একসময় যে স্টেশন ছিল মানুষের পদচারণা, ট্রেনের হুইসেল আর কোলাহলে মুখর, সেখানে এখন শুধু নীরবতা। প্ল্যাটফর্মে আর ভিড় নেই, নেই যাত্রীদের অপেক্ষা—সময়ের ভারে ক্লান্ত এই স্টেশন যেন নিজেই নিজের গল্প শোনায়।


উনিশ শতকের শেষভাগে এ অঞ্চলে রেল যোগাযোগ বিস্তারের অংশ হিসেবে লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশনের জন্ম। ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডের আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানি এ দেশে রেলপথ নির্মাণের দায়িত্ব নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮৯৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন চালু হয়। পরের বছর, ১৮৯৬ সালে কুমিল্লা–আখাউড়া–শাহবাজপুর রেলপথ স্থাপন করা হলে সেই লাইনের একটি স্টেশন হিসেবে গড়ে ওঠে লস্করপুর।


চা–বাগান অধ্যুষিত এই জনপদের মানুষের কাছে স্টেশনটি ছিল যাতায়াতের প্রধান ভরসা। শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী—সবার যাত্রার শুরু ও শেষ হতো এই প্ল্যাটফর্মে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। দূরপাল্লার ট্রেন থামা বন্ধ হয়েছে, লোকাল ট্রেনের যাত্রাবিরতিও আর নেই। যাত্রী ওঠানামার সুযোগ না থাকায় ধীরে ধীরে প্রাণ হারাতে শুরু করে স্টেশনটি।


আজ লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন কার্যত পরিত্যক্ত। ভাঙাচোরা ভবন, আগাছায় ঢাকা রেললাইন আর ধুলো জমা প্ল্যাটফর্ম বলে দেয় অযত্ন আর বিস্মৃতির কথা। প্রায় দুই শতাব্দী আগে নির্মিত এই রেলস্টেশনটি এখন অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে।


তবু ইতিহাস থেমে থাকে না। ট্রেন না থামলেও লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন আজও দাঁড়িয়ে আছে সময়ের সাক্ষী হয়ে। সে বহন করে মানুষের যাত্রা, বিদায় আর ফিরে আসার অগণিত স্মৃতি—যেন নীরব কণ্ঠে বলে যায়, একদিন এখানে জীবন থামত, ছুটত ট্রেন।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: