ভোটারদের পছন্দের শীর্ষে মিজান চৌধুরী

সুনামগঞ্জ-৫ আসন

ভোটারদের পছন্দের শীর্ষে মিজান চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

২৯/০৬/২০২৫ ১৮:৩৬:২৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নাম উঠে আসছে মিজান চৌধুরীর। ছাত্র রাজনীতিতে রাজপথ কাঁপানো নেতা মিজান চৌধুরী প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে বিরামহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক সফলতার গল্প শুরু ৮ এর দশক থেকে। সেই সময় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রদলের রাজনীতিতে। সিলেট সরকারি কলেজ থেকে শুরু হয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক পদচারণা। ছাত্রছাত্রীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বলিষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মন জয় করে নেন সহজেই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালে অংশ নেন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে। প্রথমবারেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সফলতার মুখ দেখেন তিনি। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি পদে। তখন থেকেই রাজনীতির অঙ্গণে তিনি হয়ে উঠেন এক তারকা। 


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জেলা রাজনীতিতে যুগ্ম আহবায়কের পদ পেয়ে শুরু হয় আরও বৃহৎ কর্মযজ্ঞ। ত্যাগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি কাড়েন। শক্তিশালী প্রতিধন্ধিদের সাথে লড়াই করে ১৯৯৬ সালে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। সফলতার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেক, দায়িত্ব পেয়ে যান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতির। দুই মেয়াদে কন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেন। 


সিলেটে রাজনীতির আরেক উত্থাল সময় ১৯৯৯ সাল। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের বিতর্কিত নামকরণ নিয়ে পুরো বৃহত্তর সিলেট জুড়ে শুরু হয় নামকরন বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠে সিলেটের রাজপথ। আন্দোলনকে দাবানলে রূপান্তর করতে তার নেতৃত্বে গড়ে উঠে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য পরিষদ। এই পরিষদের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এক সময় আন্দোলনের দাবানল মোকাবেলা করতে আওয়ামী সরকার সিলেটে পুলিশ বিডিআর মাঠে নামায়। সরকার আন্দোলনকারীদের উপর গুলিবর্ষনের নির্দেশ প্রদান করে। এমন নির্দেশের পরও তিনি নেতৃত্বের সামনে থেকে সরে দাঁড়াননি মিজান চৌধুরী। অনেক মামলার ফেরারী হয়ে নামকরন বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সিলেটে ছাত্রজনতা সুধীমহল সফল হয়েছিল, সরকার পিছুহঠতে বাধ্য হয়। 


গণমূখী ও কল্যাণমূখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী মিজান চৌধুরী জন্মস্মৃতি বিজড়িত ছাতক দোয়ারা বাজার সংসদীয় এলাকার জন্য কাজ করতে শুরু করেন। মিজান চৌধুরী প্রথম পর্যায়ে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহণ করেন। ১/১১ষড়যন্ত্রে বিএনপি যখন নিষ্পেষিত ঠিক তখন সরকার দলের শক্তিশালী প্রার্থী আর তাদের অপকৌশল মোকাবেলা করে প্রায় ৫৫০০০ ভোটে নির্বাচিত হলেন ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে। দায়িত্ব পালনে অসাধারন সফলতা তার ব্যক্তিত্ব নেতৃত্ব উন্নয়ন উৎপাদনমূখী চিন্তাশীল বিচরন ছাতক দোয়ারার প্রতিটি জনপদে প্রশংসার আলোচনা গ্রাম থেকে গ্রামন্তরে কখনও হাটবাজার কিংবা মেঠোপথে। উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে একফোঁটা দূর্নীতির প্রশ্ন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।


২০০৭ সালে ২২শে জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাব প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে ফের ঝড় তুললেন। অদৃশ্য কারনে নির্বাচন স্থগিত হলে কপাল পুড়লো সেই তারকার, না হয় রাজনীতির ইতিহাসে তার নাম লিখা হত অন্যভাবে। সেই অতৃপ্ত প্রত্যাশা পূরণে এবার তিনি মাঠে নেমেছেন আগ থেকেই। যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূল মানুষের সাথে। 


রাজনীতির পরিমন্ডলে ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করেছেন স্বেচ্ছাসেবকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতির, দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। বিগত ২০১৮সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, মাত্র দুই ঘন্টার ভোটে তিনি পেয়েছেন লক্ষাধিক ভোট। আওয়ামী লীগ- পুলিশ, র‍্যাব আর্মির সহযোগিতায় তার বিজয় কেড়ে নিলেও গেল আওয়ামী লীগ সরকার ছাতক-দোয়ারার জনগণের ভালোবাসা থেকে তাকে বঞ্চিত করে রাখতে পারেনি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনি শারীরিক মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মিজান চৌধুরীর ভোটার ও সমর্থকরা।  


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার হাজারীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রনেতা মুজিবুর রহমান বলেন, মিজান চৌধুরীর মতো নেতাকে বিএনপি মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। কারণ-তৃণমূলের তরুণ ভোটারদের কাছে তিনি সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। একজন পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবেও তিনি সকলের কাছে ব্যাপক সমাদৃত।

ভোটারদের বিশ্বাস আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন মিজান চৌধুরী। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে শিল্প সমৃদ্ধ ছাতক উপজেলায় যুগান্তকারী উন্নয়ন এবং নুতন করে আরো বহুমুখী শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মেঘালয় চেরাপুঞ্জির পাদদেশে দোয়ারা বাজার পর্যটন শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনা, দোয়ারা বাজার হতে পারে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য আকর্ষণীয় উপজেলা। 

সজল আহমদ

মন্তব্য করুন: