বড়লেখায় পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই ৪০ ফুটের টিলা কেটে মাটি লুট!

বড়লেখায় পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই ৪০ ফুটের টিলা কেটে মাটি লুট!

নিজস্ব প্রতিনিধি, বড়লেখা

২৭/১০/২০২৬ ১১:৩৬:০৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

দিনে-দুপুরে বিশাল টিলার গায়ে চালানো হচ্ছে মাটি কাটার দানবীয় যন্ত্র। মাঝামাঝি অংশে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক শাবল দিয়ে খুঁড়ে মাটি ফেলছে নিচে। অন্য শ্রমিকরা ব্যস্ত হাতে সেই মাটি লোড করছেন পরিবহনে।

প্রতিদিন এভাবেই খুঁড়ে নেওয়া হচ্ছে স্থানীয় মৃত আলকাছ আলী মালিকানাধীন প্রায় ৪০ ফুট উঁচু টিলাটি। এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রকৃতি ধ্বংস করে পাহাড়ি টিলার মাটি লুটের এই তাণ্ডব চলছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পূর্ব-দৌলতপুর গ্রামের মৃত আলকাছ আলীর টিলায়।

স্থানীয়রা বলছেন, টিলা এলাকার এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এ দুটির নাকের ডগায় প্রকাশ্যে চলছে টিলার মাটি লুটপাট। পরিবেশ আইনকে আমলে না নিয়ে স্থানীয় একটি চক্র বহু দিন ধরেই টিলার মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করে আসছে। তবে চোখের সামনে মাটিখেকো চক্রের এমন কর্মকাণ্ড দেখেও নিশ্চুপ পুলিশ তদন্তকেন্দ্র এবং ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার পূর্ব-দৌলতপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র এবং ভূমি অফিসের মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মিটারের দূরত্বে অবস্থিত মৃত আলকাছ আলীর মালিকানাধীন জমিতে রয়েছে একটি প্রাকৃতিক টিলা। ওপরে পাঁচ-ছয়জন নারী-পুরুষ শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে নিচে ফেলছে। সেখান থেকে ট্রাকে-ট্রাক্টরে নিয়ে রাস্তার পাশের নিচু জমি ভরাট করছে মাটি পাচারকারী চক্র। ইতোমধ্যে টিলার সিংহভাগ সাবাড় করা হয়েছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবশে ও জীববৈচিত্র্য।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে টিলায় মাটি কাটতে আসা এক শ্রমিক জানান, ঠিকাদাররা স্থানীয় প্রশাসনের (পুলিশ তদন্তকেন্দ্র) সঙ্গে লিয়াজোঁ ঠিক করেই টিলা কাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কাজে ঠিকাদারকে সহায়তা দিচ্ছেন। ঠিকাদার টিলা কেটে বিভিন্ন মালিকের ভিটা ভরাট করে দিচ্ছেন এবারের চালানে। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দেওয়া হচ্ছে। এর বেশি কিছু তাঁর জানা নেই।

বড়লেখার কমিশনার (ভূমি) সহকারী নাঈমা নাদিয়া বলেন, ওই টিলা কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি কেউ তাঁকে জানায়নি। দ্রুতই তিনি সরেজমিন ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব সমকালকে জানান, এই টিলা কর্তনের ব্যাপারে এরআগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এখন আবার টিলা কাটা হলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad