প্রবাসে মৃত্যুর ১২ দিন পর দেশে ফিরলো হবিগঞ্জের জিয়ার মরদেহ
জীবিকার তাগিদে সুদূর কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান জিয়া। স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানো, স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসজীবনের অবসান ঘটেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। মৃত্যুর ১২ দিন পর দেশে ফিরেছেন তিনি, তবে জীবিত নয়-ফ্রিজিং গাড়িতে করে নিথর দেহে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে তাঁর মরদেহ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্বজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
নিহত জিয়াউর রহমান জিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে। গত ১২ অক্টোবর কুয়েতে এক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। অবশেষে ১২ দিন পর সেই অপেক্ষার অবসান হলেও তা পরিবারের জন্য বয়ে আনে অসহনীয় বেদনা।
জিয়ার মরদেহ বাড়ির আঙিনায় পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি। যে মানুষটি পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাঁকেই শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো নিথর দেহে। পরিবারের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জায়গা দখল করে নিয়েছে শোক আর শূন্যতা।
প্রবাসে কর্মরত একজন মানুষের মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণের অবসান ঘটে না, থমকে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নও। জিয়াউর রহমান জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার বাদ আসর আব্দুল্লাহপুর গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তাঁকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।
জিয়াউর রহমান জিয়ার মৃত্যুতে স্থানীয় স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয়জনকে হারিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা মহান আল্লাহর কাছে মরহুমের ক্ষমা ও জান্নাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে এই কঠিন শোক সহ্য করার শক্তি চেয়েছেন সবার কাছে দোয়া।
স্বপন রবি দাশ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: