সুনামগঞ্জে ধর্মপাশায় শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

সুনামগঞ্জে ধর্মপাশায় শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২১/০৯/২০২৬ ১১:৪১:০০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শুভেন্দু শেখর দাসকে লাঞ্ছিত ও জরুরি বিভাগে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভাঙচুরের ফলে জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও একটি নেবুলাইজার মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত শিশুর নাম সিয়াম। সে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের রাব্বী মিয়া (৩৪) ও স্মৃতি মনি (২৮) দম্পতির সন্তান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিভিয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে সিয়ামকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল।

রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তার বাবা-মা তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাবের ফুয়াদ শিশুটিকে দেখেন। খবর পেয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু শেখর দাসও দ্রুত জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন। দুই চিকিৎসক মিলে শিশুটিকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে বিকেল ৫টার দিকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির মৃত্যুর খবর জানার পর তার বাবা-মা আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও সেখানে থাকা একটি নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুর করেন। পরে হাসপাতালের স্টাফরা চিকিৎসককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।

নিহত শিশুর দাদি ফিরোজা আক্তার (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন। আমার ছেলে ও ছেলের বউ মিলে ডাক্তারের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শুভেন্দু শেখর দাস বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তার বাবা-মা আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে লাঞ্ছিত করেন। জরুরি বিভাগের স্টাফরা আমাকে রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ায় আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার বলেন, “শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা, জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুরের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad