শ্রীমঙ্গলে অদম্য দৃষ্টির দূরন্ত স্বপ্নযাত্রায় সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহবান

শ্রীমঙ্গলে অদম্য দৃষ্টির দূরন্ত স্বপ্নযাত্রায় সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহবান

নিজস্ব প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

১৪/০৯/২০২৬ ২২:৩০:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মাত্র চার বছর বয়স, যখন বাবার স্নেহের ছায়া কেমন হয় তা ঠিকমতো বুঝে ওঠারও সুযোগ হয়নি; তখনই মাথায় নেমে এসেছিল অন্ধকারের পাহাড়। অকালে প্রাণ হারালেন বাবা ভরত বাহাদুর ছেত্রী। এর কিছুদিন পর মা-ও পাড়ি জমালেন অন্য সংসারে। মা থেকেও নেই, বাবা তো নেই-ই—এমন এক শূন্যতার মাঝে দাঁড়িয়ে যে শিশুকাল হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই কুঁড়িটিই আজ তীব্র জীবনসংগ্রাম পেরিয়ে এক অদম্য মেধার ফুল হয়ে ফুটতে চায়।

তিনি দৃষ্টি ছেত্রী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের হোসনাবাদ চা বাগানের এক জরাজীর্ণ ঘরে বাস তার। চার বছরের সেই অবুঝ খুকিটি নিয়তির শত আঘাত ও দারিদ্র্যের নিষ্ঠুর কষাঘাত পেরিয়ে এ বছর মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেছে। তার চোখে এখন কলেজে ভর্তি হওয়ার রঙিন স্বপ্ন, হৃদয়ে সমাজে আলো ছড়ানোর প্রবল আকুলতা। কিন্তু হায়! যে হাতে আজ বিজয়ের বই-খাতা থাকার কথা, অভাবের নির্মমতায় সেই হাত দুটিই যেন ঢেকে যাচ্ছে অনিশ্চয়তা আর হতাশার ঘন ছায়ায়।

বাবার আকস্মিক প্রস্থান আর মায়ের পরবাসের পর অবুঝ দৃষ্টির ঠাঁই হয়েছিল তার পিসি (ফুফু) অকাল বিধবা নির্মলা দেবীর কোলে। নিজের সবটুকু উজাড় করে পরম স্নেহে ভাইঝিকে আগলে রেখেছেন এই নারী। চা বাগানের অফিসে সামান্য ক্লার্কের কাজ করে সপ্তাহে পান মাত্র ১ হাজার টাকা। এই অতি সামান্য আয়ে যেখানে দু'বেলা অন্নসংস্থানই এক অলৌকিক ব্যাপার, সেখানে নিজের জটিল হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আজ তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব ও ঋণগ্রস্ত। মানুষের আকুল সাহায্য আর ঋণের টাকায় কিছুদিন আগে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে। ঘরে প্রতিদিন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর তীব্র হাহাকার।

তবুও থামেনি দৃষ্টির দূরন্ত স্বপ্নযাত্রা। জরাজীর্ণ ঘরের এক কোণে প্রদীপের ক্ষীণ আলোয় যে মেয়েটি নিজের ভবিষ্যৎ বুনছিল, সে আজ উচ্চশিক্ষার দৌড়গোড়ায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। বিত্তবান পরিবারের কাছে যা স্বাভাবিক এক পথচলা, দৃষ্টির কাছে তা যেন এক আকাশসম বিলাসিতা। তবু সে দমে যেতে চায় না; সে পড়তে চায়, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সমাজের কল্যাণে আলো ছড়াতে চায়।

অদম্য ইচ্ছা আর তীব্র প্রাণশক্তি বুকে নিয়ে অন্ধকারের প্রাচীর ডিঙাতে চাওয়া এই পিতৃ-মাতৃহীন কিশোরী আজ আকুল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের দিকে। একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে খুব বেশি তেলের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন কেবল একটুকু সহানুভূতির ছোঁয়া। আমাদের সামান্য একটি সাহায্যের হাতই পারে এই অদম্য মেধাটিকে প্রস্ফুটিত করতে, অন্ধকারের বুক চিরে একটি জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে।

দৃষ্টি ছেত্রীর থমকে যেতে বসা শিক্ষার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে তুলতে এবং তার লেখাপড়ার দায়িত্ব বা সহযোগিতা পাঠাতে সরাসরি কথা বলতে পারেন তার পিসি নির্মলা দেবীর সাথে।

যোগাযোগ ও সহায়তার মাধ্যম: বিকাশ নম্বর: ০১৭৪৮-৫১১০২৭ (নির্মলা দেবী)।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad