১০ টাকায় সারাদেশে পণ্য পাঠাবেন যেভাবে

১০ টাকায় সারাদেশে পণ্য পাঠাবেন যেভাবে

প্রথম ডেস্ক

১৩/০৯/২০২৬ ১০:৪৯:০৪

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা ও ই-কমার্সের অগ্রযাত্রায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অন্যতম বড় বাধা কুরিয়ার মাশুল। উদ্যোক্তাদের এই আর্থিক চাপ কমাতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে পার্সেল পৌঁছে দিতে বিশেষ ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’—এই স্লোগানে চালু হওয়া সেবাটিতে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টের মাধ্যমে এক পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে। শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও ভারী সামগ্রীও এ সেবার আওতায় পাঠানো যাবে।

জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পৌঁছাতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর বা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। প্রথমে পার্সেল পাঠানোর জন্য নির্ধারিত কাউন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।

ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করে পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের সঠিক ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। এরপর নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করলে ট্র্যাকিং নম্বরসংবলিত রসিদ দেওয়া হবে।

বুকিংয়ের পর ডাক বিভাগের অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে। এ ছাড়া বুকিংয়ের আগে অনলাইনে মাশুলের হিসাবও জানা যাবে।

ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘরে পার্সেল ডেলিভারি করা হচ্ছে। শিগগিরই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হবে।

ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা নিয়মিত শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য পাঠাচ্ছেন।

তিনি জানান, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় বর্তমানে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগলেও তা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

রত্না বাউরী

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad