একতারা-দোতারার ঝংকারে সুনামগঞ্জে বাউল শাহ আবদুল করিম স্মরণ
মাটি ও মানুষের সুরের জাদুকর, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম প্রয়াণ দিবসে কালজয়ী এই সাধকের স্মরণে অনুরাগের অর্ঘ্য ঢেলে দিল সুনামগঞ্জ। বাউলিয়ানার খাঁটি আবেগ ও সুফিয়ানা প্রেমে সুরমার কূলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো তাঁর কালজয়ী সুর।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাসন রাজা মিলনায়তনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে এক আবেগঘন স্মারক আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের আয়োজন করা হয়।
শাহ আবদুল করিমের সুর-দর্শন ও জীবনের গভীরতা নিয়ে প্রাঞ্জল স্মৃতিচারণ করেন বিশিষ্টি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ, লেখক-গবেষক সুভাষ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু এবং সাংবাদিক ও বাউল গবেষক খলিল রহমান। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল।
আলোচকেরা বলেন, "শাহ আবদুল করিম কেবল এক নাম নন, তিনি বাংলার গ্রামীণ জনপদের আত্মিক ব্যাকুলতা ও সাম্যবাদের অমর কণ্ঠস্বর। তাঁর গান আমাদের বিরহ, প্রেম ও সৃষ্টির চরম সত্যকে চিনতে শেখায়। যুগ পার হলেও তাঁর সুরের ধারা চিরপ্রবহমান থাকবে।"
স্মারক আলোচনার পর মিলনায়তনজুড়ে নেমে আসে এক অতীন্দ্রিয় সুরের ছোঁয়া। জেলা বাউল শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদের নিপুণ পরিচালনায় মঞ্চে একে একে শুরু হয় সাধকদের চরণ-বন্দনা ও করিম-সঙ্গীত নিবেদন।
সুরের মায়াজালে শ্রোতাদের বুঁদ করে রাখেন বাউল তছকির আলী, জুবায়ের বখত সেবুল, আছদ আলী, তুতি মিয়া, শফিক মিয়া, বিভাষ দাস, আবদুল আলীম, সুলেমান মিয়া, হানিফ মিয়া, সাজিদ মিয়া, ছালাম ভান্ডারী এবং বিল্লাল হামিদ। একের পর এক করিম শাহর অমর সৃষ্টি আর একতারা-দোতারার ঝংকারে গভীর রাত পর্যন্ত বাউলপ্রেমীদের হৃদয়ে এক অনির্বচনীয় আত্মিক প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
লতিফুর রহমান রাজু/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: