আহত ৫
জামালগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জামালগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. কামাল মিয়া।
আহতদের মধ্যে জয়নাল উদ্দিন ও জাছমিনা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে ইসলাম উদ্দিন (৪৫), জম্মাত আলী (৫০), গোলাপ মিয়া (৩৫), মাসুক মিয়া (৩৩), সোহেল মিয়া (২৮), দিলোয়ার হোসেন (৩০), আজিজুল ইসলাম (৪৫), সবুজ মিয়া (২৮), রাসেল মিয়া (২৭), মিলন মিয়া (২০), তামান্না বেগম (৩২), রাজু আহমেদ (৩৫) ও শরজুল মিয়া (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইসলামপুর গ্রামের জয়নাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে ভোর ৬টার দিকে হাওরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আশক আলী (১৫) নামে এক কিশোরের সঙ্গে রাজন (১৬) নামে আরেক কিশোরের কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা রামদা, বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও সুলফিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জয়নাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় জয়নাল উদ্দিনের ঘাড় ও হাতে, জিয়াউর রহমানের পা ও কপালে, ছাবিনা বেগমের উরুতে, বদিউজ্জামানের চোখের নিচে ও পায়ে এবং জাছমিনা বেগমের মুখে আঘাত লাগে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় জয়নাল উদ্দিনের গলার ডান পাশ দিয়ে সুলফি ঢুকে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় গলায় সুলফি বিদ্ধ থাকা অবস্থায়ই তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে জয়নাল উদ্দিন ও জাছমিনা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া হামলাকারীরা হয়রত আলীর বসতঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করেন। তাঁরা ২৪ বস্তা, আনুমানিক ৩০ মণ ধান, জয়নাল উদ্দিনের ঘরে থাকা ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং কামাল মিয়ার বাড়ির সামনের ঘাটে থাকা তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী কামাল মিয়া।
আহতরা চিকিৎসাধীন থাকায় ঘটনার পরপরই থানায় অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসা শেষে শনিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
রকি ইসলাম/ নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: