জাফলংয়ে'জাঙ্গুয়ার হাওর': নজর কাড়ছে ভ্রমণপিপাসুদের
সিলেটের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি আকর্ষণীয় নাম। প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ের বাউনহাওর এলাকায় অবস্থিত 'জাঙ্গুয়ার হাওর' হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম এক সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র।
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই হাওরের দিগন্তজোড়া জলরাশি ও চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ইতিমধ্যেই ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়তে শুরু করেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে জাঙ্গুয়ার হাওর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা নৌকাভ্রমণের পাশাপাশি পাহাড়ি শীতল হাওয়া আর স্বচ্ছ জলের মিতালি উপভোগে মেতে উঠেছেন। বর্ষার এই ভরা মৌসুমে হাওরের চারপাশের প্রকৃতি যেন এক নতুন রূপ ধারণ করেছে।
আগত পর্যটকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাওরের প্রধান আকর্ষণ হলো নৌভ্রমণের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের চোখ জুড়ানো দৃশ্য। এখানকার পানির স্বচ্ছতা এতটাই বেশি যে, তলদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জলজ উদ্ভিদ খুব সহজেই দৃশ্যমান হয়। একদিকে আকাশের নীল, অন্যদিকে পাহাড়ের সবুজ আর হাওরের স্বচ্ছ পানি-সব মিলিয়ে এক অপরূপ স্বর্গীয় আবহ তৈরি করে এই জাঙ্গুয়ার হাওর।
জাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে আসা সাইফ নামের এক পর্যটক বলেন, “আমরা জাফলং ঘুরতে এসে স্থানীয়দের মুখে এই হাওরের কথা শুনে এলাম। এখানকার শান্ত পরিবেশ আর কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি আমাদের মুগ্ধ করেছে। নৌকা থেকে পানির নিচের ছোট ছোট উদ্ভিদগুলো এত স্পষ্ট দেখা যায় যা সত্যিই এক অদ্ভুত অনুভূতি।”
যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে এই নতুন পর্যটন কেন্দ্রটি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সিলেট জেলা সদর থেকে জাফলংয়ে আসার প্রবেশদ্বার নলজুড়ি, শান্তিনগর ও মুসলিম নগর এলাকা থেকে খুব সহজেই পর্যটকরা এই হাওরে নৌকা ভ্রমণ করতে পারেন। এই পয়েন্টগুলো থেকে নৌকা বা স্থানীয় হালকা যানবাহনের মাধ্যমে সহজেই মূল হাওরে পৌঁছানো সম্ভব।
এদিকে জাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাহির আহমদ/ মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: