এমপির কঠোর বার্তা
জুলাই অনুষ্ঠান নিয়ে দিরাইয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিএনপি, শনিবার অপর অংশের সমাবেশ
সুনামগঞ্জ-২ আসনের দিরাইয়ে উপজেলা বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় দলের সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি যতদিন জীবিত আছি, কাউকে কোনো ধরনের দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না। যারা দলের নাম ব্যবহার করে চুরি-দুর্নীতি করতে পারছে না, তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে থানা পয়েন্টে জুলাই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিকে জুলাই স্মরণে স্থানীয় বিএনপির অন্য অংশ আগামীকাল ৮ আগস্ট সমাবেশ ডেকেছে। এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজকের এই সমাবেশই বিএনপির মূল সমাবেশ। এর বাইরে বিএনপির নামে আর কোনো সমাবেশ নেই। আগামী ৮ আগস্ট বিএনপির নামে যারা আলাদা সমাবেশ করার চেষ্টা করছে, তারা দলে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কোনো ভাই নেই, আমি একা। এমনকি আমার বাসাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরও একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলে, আমি লাখ লাখ টাকা লুটপাট করছি। যারা এসব অভিযোগ করে, তাদের জিজ্ঞাসা করুন– আসলে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে? প্রয়োজন হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য জেনে নিন।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এমপি বলেন, ‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না।’
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গেল প্রায় এক মাস হয় দিরাই বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত। দিরাই শাল্লায় বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। নাছির উদ্দিন চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। ভাটি অঞ্চলের ডাকসাইটে এই রাজনীতিক গত জাতীয় নির্বাচনের আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপরও নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয় ওই নেতাকেই দল মনোনয়ন দেয়। বয়োজ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ‘রাজনৈতিক ছায়া’ কে পাবেন– এই নিয়েই স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব শুরু হয় মাসখানেক আগে থেকেই। দ্বন্দ্বে যুক্ত দুপক্ষের একপক্ষে আছেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর ভাই (সৎ ভাই) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত)। অন্য পক্ষে আছেন এমপির স্ত্রী পারভিন আক্তার। বিএনপির স্থানীয় একাধিক কর্মী বলেছেন, ‘এখানে এমপির ছায়া স্ত্রী না ভাই পাবেন, এ নিয়ে লড়াই চলছে।’
গেল প্রায় এক মাস হয় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, যৌথসভা, অব্যাহতির সুপারিশ এবং পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দু’পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ পায়।
সমাবেশে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রামের পর আপনারা ঐক্যের ফসল পেয়েছেন। এই ফসলকে কোনোভাবেই ডুবিয়ে দেবেন না। বিএনপিকে কোনো অবস্থায় বিভক্ত করবেন না।
দলীয় কোন্দল ও বিকল্প কর্মসূচির প্রতি ইঙ্গিত করে পারভিন আক্তার বলেন, ‘আজকে এই স্মরণ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন খোদ এমপি সাহেব। অথচ শুনছি ৮ তারিখে নাকি আরেকটা মিটিং ডাকা হয়েছে। বিএনপির মিটিং হচ্ছে ৬ তারিখে। যারা ৮ তারিখে আলাদা মিটিং ডাকছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই বিএনপির বাইরের লোক এবং দলকে ধ্বংস করতেই এই বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। প্রকৃত বিএনপিপ্রেমীরা কখনও ভাগ হতে পারেন না, তারা সবসময় নাছির চৌধুরীর পাশেই থাকবেন।’
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম, পৌর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সজীব রশীদ চৌধুরী, উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা রজব আলী, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন তালুকদার, তাড়ল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীন ইসলাম, করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম, সরমঙ্গল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির মিয়া প্রমুখ।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: