শেখ হাসিনার বক্তব্য
বাড়ল ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েন
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
ঢাকার কড়া প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যর্পণের দাবি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিদেশি মাটিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। বিবৃতিতে ঢাকাসংক্রান্ত বিষয়ে অসত্য মন্তব্যের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে হস্তান্তরের দাবি পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
দিল্লিতে বক্তব্য ও দেশে ফেরার বার্তা
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৭৮ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অডিও লিংকের মাধ্যমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বক্তব্যে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্ভাব্য পরিণতি জেনেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
নয়াদিল্লির অবস্থান
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, উক্ত আয়োজনের সাথে তাদের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে যে, সেখানে দেওয়া যেকোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের দায় একান্তই বক্তার এবং ভারত সরকার এমন কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য সমর্থন করে না।
সার্বিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব
এদিকে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের উপস্থিতিও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশে সাকিব আল হাসানের বাসভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই আলোচনা বাড়ায়নি, বরং ভারত-বাংলাদেশের চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন মাত্রার জটিলতা তৈরি করেছে।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: