৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন মাসের আলটিমেটাম

৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন মাসের আলটিমেটাম

প্রথম ডেস্ক

০২/০৭/২০২৬ ০৫:৩৩:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সংকটে থাকা চারটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে (এনবিএফআই) আর্থিকভাবে পুনরুদ্ধারের জন্য শর্তসাপেক্ষে তিন মাস সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নতুন মূলধন সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রেজল্যুশন বা অবসায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


তিন মাসের সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিজস্ব সম্পদ বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা সমঝোতার মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার নির্ধারিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।


এ ছাড়া সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠন কার্যক্রমের পুরো সময়জুড়ে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর অবস্থা থেকে পুনরায় কার্যকর (ভায়েবল) অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই সময় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের দেওয়া অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হিসেবেই তিন মাসের এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।


এদিকে দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে মোট নয়টি সংকটাপন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এর মধ্যে প্রথম ধাপে সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, আভিভা ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।


এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে স্বনামধন্য অডিট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ফরেনসিক অডিট করা হবে। ওই অডিটে অনিয়ম ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সজল আহমেদ

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad