দিশেহারা ৪ হাজার পরিবার
নদীভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার ঝুঁকিতে আজমিরীগঞ্জের ১২ গ্রাম
হবিগঞ্জের বুক চিরে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো জীবন-জীবিকার আশীর্বাদ হলেও বর্ষা মৌসুমে তা কালনী ও কুশিয়ারা পাড়ের মানুষের জন্য চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অব্যাহত নদীভাঙনে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের অন্তত ১২টি গ্রাম এখন অস্তিত্ব সংকটে। ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে প্রায় চার হাজার পরিবার এখন সর্বস্বান্ত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালনী ও কুশিয়ারার করাল গ্রাসে সাহানগর, সৌলরী, বদরপুর, নজরাকান্দা, মনিপুর, জয়নগরসহ ১২টি গ্রামের শত বছরের পুরনো জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে মাত্র ১০-১৫ দিনেই প্রায় ৩০ হাত জায়গা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। সাহানগর গ্রামের বাসিন্দা দেবরাজ রায় চৌধুরী বলেন, "বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এই গ্রামে বাস করছি। গত দুই সপ্তাহ ধরে যেভাবে ভাঙছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ১৫ দিনেই আমাদের গ্রামটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।"
একই অবস্থা বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ উপজেলাতেও। বানিয়াচংয়ের পাহাড়পুর, সাতগাঁও, পিরিজপুর ও মার্কুলি বাজারসহ আশপাশের গ্রাম এবং নবীগঞ্জের দীঘলবাক ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। আজমিরীগঞ্জের সৌলরি গ্রামের শেখ মহিদ মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা গরিব মানুষ, থাকার জায়গা এই বসতভিটুকুই। এটাও যদি নদীতে চলে যায়, তবে সপরিবারে গাছতলায় থাকতে হবে।"
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. রেজাউল করিম জানান, নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান আশার কথা শুনিয়ে বলেন, ৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী ভাঙনরোধে বড় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আজমিরীগঞ্জের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে—সৌলরি বাজার, নিখলির ঢালা, সাতগাঁও এবং পিরিজপুর—স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা আসার আগেই যেন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে অন্তত বসতভিটাগুলো রক্ষার চেষ্টা করা হয়।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: