প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর : অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নেতাকর্মীরা
পূণ্যভূমি সিলেটে এসে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সিলেটে থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এখন বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ ভোটে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী এবার প্রথমবারের মতো তিনি সিলেট সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আবেগ আর উচ্ছ্বাস। একইসাথে চলছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি।
জানা গেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২ মে (শনিবার) সিলেট সফরে আসছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগর, জেলা এবং বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে যেন এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে, ছোট ছোট সভা–সমাবেশে ছড়িয়ে পড়ছে সফর ঘিরে প্রত্যাশা আর উদ্দীপনা। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতিতে সক্রিয় সময় কাটাচ্ছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি কর্মসূচি ঘিরে তাদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। অনেকেই এই সফরকে দেখছেন সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে। স্থানীয় পর্যায়ে তাই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও সমন্বয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সফরসূচি অনুযায়ী ২ মে সকালে তারেক রহমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে তিনি হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহ পরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২২ জানুয়ারী সিলেটে এসেছিলেন তারেক রহমান। তখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের জন্য এসেছিলেন। সিলেটে এসেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি দলীয় বিভিন্ন সমাবেশে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার দিনভর সিলেটে তাঁর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সাড়ে ১০টায় তিনি হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ১১টায় নগরের সুরমা নদীর তীরে ঐতিহাসিক চাঁদনীঘাটে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক গৃহীত 'জলাবদ্ধতা নিরসন' প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬'-এর জমকালো উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলীয় সভায় যোগ দেবেন। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ৭টায় বিমানযোগে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানায়, সিলেট নগরীকে 'গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদী কেন্দ্রীক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীতীর সৌন্দর্য্যবর্ধন, তুইস গেইট স্থাপনসহ প্রয়োজনী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সিসিক প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া সিলেটকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে চাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতি অত্যন্ত সদয়। তাঁর উদ্যোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, রেলওয়ের ডাবল লাইনসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, যা সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে সফর ঘিরে নগরীতে এক ধরনের সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির আবহ দেখা যাচ্ছে। কোথাও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, কোথাও আবার সাজানো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো। সব মিলিয়ে সিলেট যেন অপেক্ষায়—একটি সফরকে ঘিরে নতুন করে জেগে ওঠা রাজনৈতিক উত্তেজনা আর আবেগের মিশেলে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: